
সুইডেনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় সতর্ক করল ব্রিটেন
সুইডেনে ভ্রমণের ব্যাপারে নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, যেকোনো সময় সন্ত্রাসীরা সুইডিশ মাটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করবে এবং এ সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র। সুইডেনের বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ছাড়াও যেকোনো ধরণের সার্বজনীন এলাকায় ব্রিটিশ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সুইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের উপদেষ্টা হেনরিক ল্যান্ডারহোম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সুইডেন ছাড়াও বিদেশের মাটিতে সুইডেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টি ব্যাবসায়িক ও সুইডিশ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’
কোরআন পোড়ানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর বিদেশে সুইডিশ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে হুমকির মাত্রা বেড়েছে উল্লেখ করে ল্যান্ডারহোম বলেছেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির এমনভাবে অবনতি হয়েছে যে সন্ত্রাসীদের কাছে সুইডেন একটি তালিকাভুক্ত অগ্রাধিকারের দেশে পরিণত হয়েছে।’
সাম্প্রতিক অস্থিরতার ফলস্বরূপ যুক্তরাজ্য এখন সুইডেনে অবস্থানরত ব্রিটিশদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বলের পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটেন তার বিবৃতিতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে ‘অত্যন্ত সম্ভাবনাময়’ দেশ হিসেবে সুইডেনকে বর্ণনা করেছে। পাশাপাশি ব্রিটিশদের, বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় খুব সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এটা হতে পারে কোনো নির্বিচার ও ভয়ানক রক্তক্ষয়ী আক্রমণ, যেখানে সাধারণত প্রচুর পর্যটকদের ভিড় থাকে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশে সুইডিশ দূতাবাসগুলো বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হয়েছে। জুনের শেষের দিকে স্টকহোমে এক মসজিদের বাইরে কোরআন পোড়ানোর ঘটনার পর বাগদাদে সুইডিশ দূতাবাসে হামলা চালানো হয়। তার কয়েক সপ্তাহ পর স্টকহোমে ইরাকি দূতাবাসের বাইরে পরিকল্পিত কোরআন পোড়ানোর কয়েক ঘন্টা আগে বাগদাদে সুইডিশ দূতাবাসে আগুন দেওয়া হয়।
কোরআন পোড়ানোর ঘটনাগুলোতে নিন্দা জানিয়ে তখন বিবৃতি দেয় অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং তাদের ৫৭টি সদস্য দেশ।
এ ছাড়াও লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ কোরআন পোড়ানোর তীব্র নিন্দা করেছেন এবং তরুণ মুসলমানদের যেকোনো মূল্যে ‘পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রক্ষার’ আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও সুইডেনের বিরুদ্ধে হামলার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিভিন্ন দেশ ও দেশগুলোর বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদরাও বার্তাগুলোতে সমর্থন দিয়েছেন বলে সুইডেনের নিরাপত্তা পর্ষদের উপদেষ্টা হেনরিক ল্যান্ডারহোম তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।



