
সুয়েজ খাল চালু হতে কত সময় লাগবে?
সুয়েজ খালে আটকে পড়া বড় কনটেইনার জাহাজটি যত দ্রুত সম্ভব অপসারণ করা হবে। জাহাজটির জাপানি মালিক এ কথা জানিয়েছেন।
গতকাল সোই কিসেনের প্রেসিডেন্ট ইয়োকিতো হিগাকি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাহাজটি অপসারণে ১০টি টাগবোট কাজ করছে। তারা আশা করছেন শনিবারের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে, সেই দলে নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞরাও রয়েছে।
গত মঙ্গলবার এভার গ্রিন নামের কনটেইনার শিপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। এ কারণে আফ্রিকা ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছে অনেক জাহাজ।
সুয়েজ খাল রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় লোহিত সাগরে জট সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে দুই শতাধিক জাহাজ আটকে আছে।
জাপানের ইমাবারি শহরে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে হিগাকি জানান, ক্রমাগত পলি তুলে জাহাজটি ভাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। টোকিও সময় শনিবার বিকেলের মধ্যে পুরো কাজটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন।
তিনি জানান, জাহাজের রাডার ও প্রপেলারে কোনো ক্ষতি হয়নি। একবার ভাসানো গেলেই এটি কাজ করবে। এর জন্য খনন চলছে।
এর আগে জাহাজটি ভাসানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় বলে জানান প্রকৌশলীরা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি জানান, সুয়েজ খালের পথ পুনরায় চালু করতে সাহায্যে রাজি আছেন তারা। পুরো বিষয়টি তাদের পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
এভার গ্রিনের এমন বিপর্যয়ে সারা বিশ্বের জাহাজের শিডিউল আক্রান্ত হয়েছে।
৪০০ মিটার লম্বা ও ২ লাখ টন ওজনের জাহাজটি মঙ্গলবার সকালে তীব্র বাতাস ও ধূলিঝড়ের মুখে পড়ে। এ সময় চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলে নাবিকেরা পথ হারান।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১২ ভাগ চলাচল ১৯৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পথ দিয়েই হয়। যা ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এশিয়া ও ইউরোপের যোগাযোগকে সংক্ষিপ্ত করেছে। এর বিকল্প হিসেবে নৌযানকে আফ্রিকার দক্ষিণাংশের উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আসতে হয়, এতে বাড়তি সময় লাগে দুই সপ্তাহ।
সুয়েজ খাল ধরে প্রতিদিন ৯৬০ কোটি ডলারের পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়।❐



