
স্টারবাকস বয়কটের ডাক দিলেন নিউইয়র্কের মেয়র–ইলেক্ট জোহরান মামদানি
“চুক্তি না হলে কফি নয়”—শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আহ্বান মেয়র–ইলেক্টের
হোসনেআরা চৌধুরী: নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি দেশজুড়ে চলমান স্টারবাকস শ্রমিকদের ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে স্টারবাকস বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্টারবাকস কর্মীরা বর্তমানে Unfair Labor Practices (ULP)–এর অভিযোগ তুলে ন্যায়সংগত চুক্তির দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছেন। মামদানি জানিয়েছেন—শ্রমিকরা যখন ন্যায্য অধিকার আদায়ে লড়াই করছেন, তখন তিনি স্টারবাকস থেকে কফি কিনবেন না এবং সাধারণ মানুষকেও তাতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
ধর্মঘটের পটভূমি
শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, স্টারবাকস দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় অগ্রগতি করছে না এবং ইউনিয়নকে স্বীকৃতি না দিয়ে কাজের পরিবেশে নানা অনিয়ম বজায় রেখেছে। দেশজুড়ে একাধিক শাখায় কর্মীরা ধর্মঘট শুরু করলে বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় আসে।
মামদানি তাঁর বার্তায় বলেন—
“No contract, no coffee.”
অর্থাৎ “ন্যায্য চুক্তি না হলে কোনো কফি নয়।”
এই স্লোগানই এখন ধর্মঘটের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মেয়র–ইলেক্টের অবস্থান
জোহরান মামদানি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার, ইউনিয়ন আন্দোলন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সক্রিয়। স্টারবাকস বয়কটের আহ্বান তাঁর ভবিষ্যৎ মেয়াদকালের রাজনৈতিক অঙ্গীকারকেও স্পষ্ট করে—নগর প্রশাসন শ্রমিকবান্ধব নীতিকে অগ্রাধিকার দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টারবাকসের প্রতিক্রিয়া
স্টারবাকস দাবি করেছে, তারা রিটেইল সেক্টরে প্রতিযোগিতামূলক বেতন দিচ্ছে এবং অধিকাংশ স্টোর স্বাভাবিকভাবে চালু আছে। তবে ইউনিয়নের অভিযোগ—ব্যবস্থাপনা আলোচনায় বারবার বাধা সৃষ্টি করছে এবং শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি উপেক্ষা করছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
• শ্রমিকদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় হবে—কারণ এক বড় নগরনেতা প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
• গ্রাহকদের আচরণ বদলাতে পারে—অনেকেই স্টারবাকসের পরিবর্তে স্থানীয় কফিশপে যেতে পারেন।
• কর্পোরেট বিশ্বে চাপ বাড়বে—বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমর্থন কোম্পানিকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করতে পারে।
• নিউইয়র্ক সিটির শ্রমনীতি প্রভাবিত হতে পারে—এ ধরনের অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসংহার
স্টারবাকসের শ্রমবিরোধ শুধু একটি কোম্পানি ইস্যু নয়—এটি শ্রমিক অধিকার, রাজনৈতিক নীতি ও ভোক্তার নৈতিক সিদ্ধান্তের সমন্বিত একটি বড় ঘটনা। জোহরান মামদানি এই বয়কটের আহ্বান জানিয়ে সেই বিতর্ককে আরও উচ্চতায় তুলে এনেছেন। নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর নেতৃত্ব শুরু হওয়ার আগেই শ্রমিক অধিকার নিয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।



