আন্তর্জাতিক

৭ হত্যার দায়ে ২০ বছর পর বিচারের মুখোমুখি এক নারী সিরিয়াল কিলার

চীনের এক নারীর বিরুদ্ধে সাত জন লোককে হত্যা করার অভিযোগে মামলা হয়েছে আজ থেকে ২০ বছর আগে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনোভাবেই তার হদিশ করতে পারছিল না। অবশেষে সেই নারী দক্ষিণ-পূর্ব চীনে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

২০১৬ সালে জিয়ামার বারে যখন লাও রংঝি ওয়াইন বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন, সে সময়ের ছবি, গুচেং ডট কম

গত সোমবার জিয়াংশি প্রদেশের নানচাং ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টে লাও রংঝি (৪৬) নামের ওই নারীকে হাজির করা হয়। আদালতের অফিসিয়াল ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র বেইজিং ইয়ুথ ডেইলি জানিয়েছে. লাও তার ভিকটিমের পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার ‘শিকার’ ছিলেন। তার প্রেমিককে সহযোগিতা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার প্রেমিক ফা জিয়ায়িং একাধিক খুনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে ফা গ্রেফতার হন। তাকে সাত খুনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং সে বছরের ডিসেম্বরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

নানচাং আদালত জানিয়েছে, এ দুই জন মিলে সব হত্যার পরিকল্পনা করতেন এবং কাজ ভাগাভাগি করে নিতেন। তারা যৌথভাবে নানচাং, ভেনজু, চাংঝো এবং হেফেইতে ডাকাতি, অপহরণ এবং ইচ্ছাকৃত হত্যার সঙ্গে জড়িত।

বেইজিং ইয়ুথ ডেইলি জানিয়েছে, লাও আদালতকে জানিয়েছেন, তার প্রেমিক ফা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাকে হত্যা করতেন। তিনি তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এমনকি দুটি গর্ভপাত হয়েছে তার।

নানচাং ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টের বিবৃতি অনুসারে, লাও এবং ফা ১৯৯৬ এবং ১৯৯৯-এর মধ্যে সম্পর্কে ছিলেন।

ফা গ্রেফতার হওয়ার পর লাও পলাতক ছিলেন। তিনি সারা দেশ ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিভিন্ন শহরে অবস্থানকালে বার এবং বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে খণ্ডকালীন চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, গ্রেফতার এড়ানোর জন্য লাও তার চেহারা পরিবর্তন করতে অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাও গত বছরের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ-পূর্ব শহর জিয়ামেনের একটি শপিংমলে গ্রেফতার হন। তাকে হত্যা, ডাকাতি এবং অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension