
৯/১১ হামলার পেছনের সন্ত্রাসীরা ‘আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী’
গতকাল ছিল বিশ্বকে নতুন মেরুকরণের দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নাইন ইলেভেন দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায় আত্মঘাতী হামলা চালায়।
এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে। দুটি বিমানের লক্ষ্য ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ার।
ওই হামলার ৫০ মিনিট না যেতেই তৃতীয় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয় ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শাঙ্কসভিলেতে একটি খালি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
নাইন ইলেভেনের ওই সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন ছয় হাজারের বেশি মানুষ। ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর হয় যুক্তরাষ্ট্র আর সেই সঙ্গে বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কমপক্ষে ছয় ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ ও সামরিক শক্তি প্রয়োগের ফলে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা কিছুটা পিছু হটলেও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সন্ত্রাসী সংগঠনটি গত ১৯ বছরে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
দেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক গ্রেগ বার্টনের মতে, ‘আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হলেও, অন্য অনেক দিক দিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠনটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
গত দুই দশকে আল-কায়েদা ও এ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কৌশলগত ও অবকাঠামোগত দিক দিয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। আগের মতো তারা আর এক বা দুটি দেশকে কেন্দ্র করে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে না।
এখন এসব সংগঠনগুলোর কেন্দ্রস্থল খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’ আল-কায়েদা-ইসলামিক স্টেট এখন পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। দলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে সন্ত্রাসীরা।
ভৌগোলিক দিক দিয়ে যেসব অঞ্চলের সরকার তুলনামূলক দুর্বল, ওই দেশগুলোকে টার্গেট করছে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো। সরকারগুলোর দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সামাজিকভাবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে দলগুলো।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আফ্রিকার কিছু অংশ ও মধ্যপ্রাচ্যে আল-কায়েদা সমর্থিত অনেক সংগঠন সাধারণ মানুষের মধ্যে পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরণ করেছে সামাজিকভাবে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করতে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার অন্য একটি কারণ সন্ত্রাসীদের বৃদ্ধিতে। সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করছে। এতে অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী চেতনা কাজ করছে, যার সুযোগ নিয়ে বহু তরুণকে দলে নিতে পারছে সন্ত্রাসী দলগুলো।
আল-কায়েদার বর্তমান প্রধানের নাম আয়মন আল জাওয়াহিরি। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দারা জাওয়াহিরির বেঁচে থাকা নিয়ে নিশ্চিত নয়। একাধিকবার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় জাওয়াহিরির মৃত্যুর খবর বের হলেও আল-কায়েদার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কিছু বলা হয় নি।
লাদেনের মৃত্যুর পর জাওয়াহিরি আল-কায়েদাকে তাত্ত্বিকভাবে নতুন পথে নিয়ে যান। তার নেতৃত্বের কারণে আঞ্চলিক নেতৃত্ব নতুন কৌশলে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র জোটের হামলায় আঞ্চলিক নেতার মৃত্যু হলেও, ওই স্থানে খুব দ্রুত আরেকজনকে বসাতে পারছে আল-কায়েদা নেতৃত্ব। ফলে দলে ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে না, যা সন্ত্রাসবাদবিরোধী জোটের জন্য চিন্তার বিষয়।❐
নাইন নিউজ ডট কম



