
ইসরায়েলের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক। ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ‘বিপর্যয়কর মানবিক ট্র্যাজেডি’ ঘটাচ্ছে উল্লেখ করে তুরস্ক এই ঘোষণা দিয়েছে। আজ শুক্রবার (৩ মে) বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করেছে। তুরস্কের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসরায়েল গাজায় নিরবচ্ছিন্ন এবং পর্যাপ্ত সহায়তা প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।’
গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছিল প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ‘স্বৈরশাসকের’ মতো আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্স-এ বলেছেন, ‘এরদোয়ান তুর্কি জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে উপেক্ষা করছেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির তোয়াক্কা করেননি।’
তিনি আরো যোগ করে বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যের বিকল্প খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় উৎপাদন এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
এক বিবৃতিতে তুরস্ক বলেছে, বাণিজ্য স্থগিতাদেশের মধ্যে সব ধরনের পণ্যই থাকবে। সেখানে আরো বলা হয়, ‘ইসরায়েল সরকার গাজায় নিরবচ্ছিন্ন এবং পর্যাপ্ত মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তুরস্ক কঠোরভাবে এই নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।’
১৯৪৯ সালে তুরস্কই ছিল প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ১০ ফিলিস্তিনপন্থী তুর্কি কর্মী ইসরায়েলি কমান্ডোদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন। তারা তুরস্কের মালিকানাধীন একটি জাহাজে চড়ে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামুদ্রিক হামলা রোধের চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় ২০১০ সালে তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। ২০১৬ সালে সেই সম্পর্ক আবার জোড়া লেগেছিল।
কিন্তু গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় দুই বছর পর উভয় দেশ একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে এরদোয়ান ইসরায়েলকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করে আসছেন। গত জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যে সামরিক আক্রমণ শুরু করেছেন, তা হিটলারের চেয়ে কম নয়।’
গাজা উপত্যকার এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ গত মাসে বলেছিল, গাজার ১.১ মিলিয়ন মানুষ বিপর্যয়কর ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছে এবং মে মাসের মধ্যে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ আসন্ন।
সূত্র: বিবিসি



