
দ. কোরিয়ায় প্রেমিকা খুন করে লাশ গুম করতে প্রেমিকের ভয়ংকর কাণ্ড
পাঁচ বছর ধরে প্রেমিকার সঙ্গে একই বাসায় বসবাস। বেশ ভালোভাবেই করছিলেন সংসার। তবে একদিন হঠাৎ ঝগড়া হয় দুজনের। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ভোঁতা কোনো জিনিস দিয়ে প্রেমিকার মাথায় আঘাত করেন প্রেমিক। এতে মারা যান প্রেমিকা। এরপর লাশ ধামাচাপা দিতে ঘরের পাকা দেয়ালে গর্ত করেন। স্যুটকেসে ভরে সেখানে লাশ রেখে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দিয়ে দেন। এভাবে এক বা দুই বছর নয়, টানা ১৬ বছর প্রেমিকার লাশ গুম করে রাখেন প্রেমিক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
বিবিসির খবর অনুযায়ী, ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। ১৬ বছর পর ওই ব্যক্তি প্রেমিকাকে মেরে লাশ গুম করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তার ছদ্মনাম দেয়া হয়েছে ‘মিস্টার এ’। তার বয়স ৫০-এর ঘরে।
ওই ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশকে জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জিওজের বাসায় কথা কাটাকাটির সময় তিনি একটি ভোঁতা জিনিস দিয়ে ওই নারীকে আঘাত করেন। এ আঘাতে তিনি মারা যান। এরপর তার লাশ স্যুটকেসে ভরে বারান্দার দেয়ালে চাপা দিয়ে দেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত মাস পর্যন্ত বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। তবে আগস্টে বাড়ি মেরামত করতে ড্রিলিং করার সময় এটি আবিষ্কার করেন একজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী। এত বছর হয়ে গেলেও স্যুটকেসের ভেতরে মরদেহের কিছু অংশ পাওয়া যায়। পরে আঙ্গুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিখোঁজ ওই নারীর মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তে জানা গেছে যে মাথায় ভোঁতা কোনো জিসিনের আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মরহেদ উদ্ধারের সময় মিস্টার এ ওই বাসায় ছিলেন না। তবে তাকে দ্রুত খুঁজে বের করা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, জিওজে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন তিনি। তবে ২০০৮ সালের অক্টোবরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি তাকে একটি ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তার লাশ স্যুটকেসে ভরে বারান্দার দেয়ালে চাপা দেয় দেন।
পুলিশ আরও জানায়, এই ঘটনার পর ওই বাসায় আট বছর বাস করেন মিস্টার এ। তবে ২০১৬ সালে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। তারপর থেকে বাড়িওয়ালা বাসাটিকে স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।
এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কোরিয়ান পুলিশ। এ ছাড়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেয়ার কথাও বলেছে পুলিশ।



