
মস্তিষ্ক যদিও স্মৃতি শূন্য
তথাপি আমার আস্থা অভিজ্ঞতাবাদে;
কিন্তু মাঝে মাঝে অবসাদে
ভেঙে পড়ি—দাঁড়াই আবার জোয়ারের বিপরীতে।
আজন্ম অতৃপ্ত আমি কখনও দিতে
পারি নাই প্রগাঢ় চুম্বন
প্রেমিকার প্রাক্তন অধরে; হায় মন,
আজ আর কী লাভ সন্তাপে
রাত জেগে বেদনার বিষণ্ন বিলাপে!
পুনর্জন্মে আমার বিশ্বাস নেই কোনো,
তাই তো এখনো
ভাবি পৃথিবীর সব হিসেবের খাতা
পুড়ে যাবে পৃথিবীতে; যেন ঝরা পাতা
হেমন্তের বিকেলের। জানি না কোথায়,
কোনো এক সমুদ্রের পারে লুকানো রয়েছে হায়,
অতীতের অভিজ্ঞান; রোজ
তবু সূর্য ওঠে, আর আঁধারে নিখোঁজ
হয় প্রতারিত প্রেমালাপ।
আর কতো প্রতীক্ষা আমার?
কেন দাঁড়াবার
কথা ভাবি আজ পূর্ণিমার প্রলোভনে?
যে আঘাত লেগেছিল ক্ষুধার্ত যৌবনে
কে দেবে এখন তার প্রলেপ ক্ষতের?
জোছনায় কপোতাক্ষ নদের
তীরে অগণিত রাত গিয়েছিল ভেসে;
সেই ব্যথা বুকে নিয়ে পাখি নিরুদ্দেশে
উড়ে গেছে হায়, কেঁদে কেঁদে।
ফিরে আসে বুমেরাং—ফেরে না সময়;
তবু সংশয়
কেন জাগে, কাহার প্রতীক্ষা করে মন?
কোনো এক গভীর গোপন
প্রেম আঁধারের সাথে করে সন্ধি;
আমরা সবাই আজ বন্দি
নিজস্ব নির্মিত অহঙ্কারে।
মুক্তি নেই, মুক্তি নেই শুনি বারে বারে
ঘোষণা করছে কেহ নিরালায় বসে।
স্মৃতি সর্বদা অতীতাশ্রয়ী
বর্তমান যেন মরীচিকা;
প্রজ্ঞার প্রতাপে মনে জাগে বিভীষিকা
অতএব আমাদের সব
আয়োজন ব্যর্থ হতে বাধ্য; তাই হয়তো নীরব
পরম পুরুষ; তবু প্রতীক্ষায় থাকে
যদি কেউ রেবতী নদীর বাঁকে
সমাপ্ত সন্ধ্যার নীলিমার শোক গানে—
ভবিষ্যত দেখবার অন্তর্দৃষ্টি নিহিত নির্বাণে।



