
একটি ফ্যান, দুটি বাতিতে জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল এক লাখ ৬৭ টাকা
একটি ফ্যান ও দুটি বাতির আলোয় দিন-রাত পার। এতেই বিল এসেছে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এমন ভুতুড়ে ঘটনায় গ্রাহকের চোখ চড়কগাছ। সম্প্রতি বিলের কাগজ হাতে পান হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কাজী ছাওধন মিয়া। তাতে তিনি দেখেন, জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে পল্লী বিদ্যুতের অফিস বলছে, কম্পিউটারে বিল তৈরির সময় এমন কাণ্ড ঘটেছে। বিল প্রস্তুতকারীকে তারা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট গ্রামের বাসিন্দা কাজী ছাওধন মিয়া। তিনি পেশায় দিনমজুর, তার ঘরে একটি ফ্যান ও দুটি বাতি জ্বলে। প্রতি মাসে তার বিল ২০০-৩০০ টাকার বেশি আসে না। জুলাই মাসে বিল এসেছে, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫ টাকা। আর বিলম্ব ফি ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৫ টাকা। আর বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ১০ হাজার ৮৫ মেগাওয়াট। অবশ্যই এর আগের মাসের বিল ছিল মাত্র ১০৫ টাকা।
কাজী ছাওধন মিয়া বলেন, ‘আমি একটি বাতি ও একটি ফ্যান ব্যবহার করি। আমি এই বিল দেখে অবাক। এ ঘটনায় আমি দুই দিন অফিসে যাই, বলা হয়েছে এটা ঠিক করে দেবে।’
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন প্রায় সাড়ে ৪ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি উপজেলায় ২৪টি চা বাগান, সরকারি–বেসরকারি অফিস, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা রয়েছে। জুনের তুলনায় গ্রাহকদের জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিলে দেড় থেকে দ্বিগুণ হয়েছে।
নবীগঞ্জের এক ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, ‘প্রতি মাসে ৬০০-৮০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে। অথচ জুলাই মাসে ১৬০০ এসেছে।
দৌলতপুর গ্রামের বদরুল ইসলাম নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল কম আসবে বলে বাসায় দু’টি মিটার লাগিয়েছি। এখন দেখা যায়, আগের চেয়ে আরও বেশি বিদ্যুৎ বিল আসে।
নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর নবীগঞ্জ অফিসের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গরমের সময় একটু বেশি বিল আসে।
দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ভুলে হয়েছে। আমরা বিল প্রস্তুতকারী ক্ষমা দাশকে শোকজ করেছি। সে বলছে, ভুল হয়েছে, আর এ রকম ভুল হবে না। কাজী ছাওধন মিয়ার বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।’



