
ভুল ইমেইল পাঠিয়ে কর্মী ছাঁটাই, এবার মানসিক ধাক্কা কাটাতে কাউন্সেলিং দেবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক
ভুলবশত এক ইমেইলের মাধ্যমে একশোর বেশি সিনিয়র ব্যাংক কর্মীকে চাকরিচ্যুতির খবর জানিয়ে ফেলায় ক্ষমা চেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এএনজে (এএনজে) ব্যাংক। এ ঘটনার পর তাদের জন্য মানসিক পরামর্শ (সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং) সুবিধা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ব্যাংকটি।
গত বুধবার, ব্যাংকের খুচরা বিভাগে কর্মরত কিছু কর্মীকে একটি অটোমেটেড ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল। কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হওয়ার আগেই ই-মেইলে তাদের চাকরির শেষ দিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া কর্মীদেরকে কম্পানির ল্যাপটপ ফেরত দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে।
এএনজে ব্যাংকের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ভুলবশত ই-মেইলটি পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, ‘কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত, বিশেষ করে যখন আমাদের সংস্থা কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’ তবে কতজন কর্মী চাকরি হারাচ্ছে এবং কতজন এই ভুল ই-মেইল পেয়েছে, তা সম্পর্কে ব্যাংক কোনো মন্তব্য করেনি।
এএনজে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম ব্যাংক। বর্তমানে তার নতুন সিইও নুনো মাতোসের নেতৃত্বে একটি কৌশলগত পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাকে মে মাসে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকের খুচরা ব্যাংকিং বিভাগের আংশিক প্রধান ব্রুস রাশ বুধবার সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছেন, চাকরি ছাঁটাই সম্পর্কিত ই-মেইলটি সময়ের আগে পাঠানো হয়েছে এবং এর জন্য ব্যাংক দুঃখিত।
পরে বুধবার এক সভায়, কর্মীদের মানসিক সহায়তা এবং কাউন্সেলিং প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাশ তার পাঠানো ই-মেইল বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এই ই-মেইলগুলো আমাদের কিছু সহকর্মীদের তাদের চাকরিচ্যুতির তারিখ জানিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এ ঘটনার আগে কোনো আলোচনা হয়নি তাদের সঙ্গে। এটি আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না এবং আমি এর জন্য দুঃখিত।’
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত, এএনজে ফিনান্স সেক্টর ইউনিয়ন (এফএসইউ)-এর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি, যা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করে।
ইউনিয়নের সভাপতি ওয়েনডি স্ট্রিটস এই বিষয়ে বলেছেন, ‘ভুলগুলো ব্যাংকের নতুন সিইও-এর চাপানো দ্রুত পরিবর্তনের ফল।
’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত অপ্রীতিকর, যারা এমন একটি ভুল ই-মেইলের মাধ্যমে চাকরি হারানোর খবর জানলেন। তাদের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।’
সূত্র : রয়টার্স



