যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ ইরানের

ইরানকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই এই প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মাধ্যমে দেওয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এমন সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি এই খবর দিল, যখন ক্রমেই উভয়পক্ষের হামলার ঝাঁজ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতভর ইরানের ছয়টি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। টানা ১৩তম রাতে তারা হামলা চালায়। সর্বশেষ ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই খুজেস্তান প্রদেশের বাসিন্দা। এর জবাবে ইরান মার্কিন মিত্র জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকে হামলা চালায়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে গেলেও কোনো দেশই এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চায় না। সাম্প্রতিক হামলার মধ্যেও তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে অবগত ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর আল-জাইদি এই প্রস্তাব নিয়ে তেহরান গিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটির বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এটিকে বর্তমানে দেওয়া একমাত্র প্রস্তাব হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তেহরান এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, এ প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সমস্যার কোনো সমাধান করা হয়নি।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিষয়টি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ইরানের ছয় প্রদেশে হামলার প্রতিবাদে কুয়েতে থাকা আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি বিশাল গোলাবারুদের গুদামে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর পাশাপাশি জর্ডান ও কাতারে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে তারা।

আইআরজিসির দাবি, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২৭তম ধাপে এ হামলার ফলে গোলাবারুদের গুদামটি একাধিক বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ঘাঁটিতে সেনাসদস্যদের অবস্থানের জন্য ব্যবহৃত হ্যাঙ্গারগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ছয়টি বড় হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, আরও তিনটি হ্যাঙ্গার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস শহরের তাপ্পেহ আল্লাহ আকবার এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন আহত হন। সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হামলায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্দর আব্বাসের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, ইসফাহান প্রদেশের নায়েন শহরের একটি এলাকায় শুক্রবার সকালে নতুন করে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ ছাড়া লোরেস্তান প্রদেশের খোররমাবাদ এবং মারকাজি প্রদেশের খান্দাব এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর জবাবে শুক্রবার জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটি আর কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা হয়েছে।

এর মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও দখলে থাকা ইরানের অর্থ থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ মেটানোর চেষ্টা খুবই বিপজ্জনক নজির। এর জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension