
টেনেসিতে সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী মোহসিন রানা নিহত
শাহ্ জে. চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি প্রবাসী মোহসিন রানা। এ ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী কোরি হাউগেকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার ভোররাত আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে বেলসের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহসিন রানা। এ সময় এক সশস্ত্র ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে টাকা দাবি করে। মোহসিন ক্যাশ রেজিস্টারের টাকা তুলে দেন। পরে সন্দেহভাজন সিগারেট চাইলে সেটিও তাকে দেন তিনি।
কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোহসিনকে গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর একজন ক্রেতা দোকানে এসে কাউন্টারের পেছনে মোহসিনকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে মোহসিন দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেছিলেন। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। বাংলাদেশে রয়েছে তার দুই সন্তান।
মোহসিনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের জন্য জীবিকার সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে আসা একজন প্রবাসী এভাবে প্রাণ হারাবেন—এটি মেনে নেওয়া স্বজন ও পরিচিতজনদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্ত ও অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তকারীরা ২৯ বছর বয়সী কোরি হাউগেকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে জ্যাকসন শহরে পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, বেলসের এই প্রাণঘাতী ডাকাতির পাশাপাশি হাউগেকে অন্য একটি প্রাণঘাতী ডাকাতির সঙ্গেও যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
মোহসিন রানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে Tennessee Bureau of Investigation (TBI) যুক্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
একটি সশস্ত্র ডাকাতি কেড়ে নিল একজন বাংলাদেশি প্রবাসীর জীবন। দেশে থাকা তার দুই সন্তান হারালেন তাদের বাবাকে। প্রবাসের মাটিতে জীবিকার সংগ্রামে থাকা মোহসিন রানার এই নির্মম মৃত্যু আবারও রাতের শিফটে কর্মরত অভিবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে।



