

জয়শ্রী মোহন তালুকদার
বাদল দিনে মনে পড়ে
গৌরী রানীর কথা,
আমার গ্রামের ছোট্ট ঘরে
থাকত সে যে একা।
বাদল দিনের আঁধার রাতে
ঢুকল গৌরীর ঘরে,
নরপশুর সেই হিংস্রতায়
লজ্জা গেল কেঁদে।
চোখের ভাষায় বলত কথা,
মুখে সদাই হাসি,
গৌরী রানীর কষ্টের কথা
জানত গ্রামের বাসী।
গৌরীর চোখের অশ্রুধারা
সাক্ষী রইল নীরব,
তার বুকভরা আর্তনাদে
কেঁপে উঠল নীল গগন।
আপনজন কেউ ছিল না
এই ত্রিভুবনজুড়ে,
গৌরী রানীর জীবন যেন
অন্ধকারে ঘুরে।
আমার দেশের লক্ষ গৌরীর
খবর কজন রাখে?
কত গৌরীর স্বপ্ন মরে
অবহেলার ফাঁকে!
পরের বাড়ি কাজ করে
কাটত সারাবেলা,
অর্ধাহারে, অনাহারে
কাটত কত বেলা।
গৌরী যাবে না পরদেশে,
থাকবে আপন দেশে—
নরপশুদের বিচার যদি
হয় এই বাংলাদেশে।
পুকুরঘাটে গৌরী রানীর
রূপের ছটা দেখে,
চোখ পড়েছিল এক নরপশুর
পাশবিক কামনায় ডেকে।
গৌরীর মতো প্রতিটি নারী
পাক নিরাপদ আশ্রয়,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠুক
মানবতার বিজয়।



