
বিপুল চন্দ্র রায়
পরিচয় হলো আমাদের কাশবনে শিউলি প্রাতে,
আকাশ, বাতাস, নদ-নদী, তরুলতা সাক্ষী রেখে কুঞ্জবনে,
তরুণীর লাবণ্যময় ললাটে
সিঁদুরের চিহ্ন দাগ কেটে প্রণয় নীলাসিন্ধু।
এরপর যামিনী ফুরায়, দিবস গড়ায়
আমাদের লুকোচুরি খেলায়।
একদিন হঠাৎ মৌমিতা গুণগুণ কণ্ঠে
নবান্ন উৎসবে কার্তিকের হাত ধরে
হারিয়ে গেল দূর বহুদূর
অথচ এত বছরের প্রেম বুঝিনি!
অমাবস্যা তিথি নামে নিদারুণ কপালে
এরপর বিচ্ছেদ হলো আমাদের হেমন্তের প্রস্থানে,
শ্মশান, চিতা দহনে…
মৌমিতা থমকে রহে নীরব প্রাঙ্গণে
হৃদয়ের মানচিত্রে।
তবুও একদিন আত্মবিস্মৃত পথিকের মতো,
বৈরাগী বেশে ফিরে যাই সেই চেনা শিউলিতলায়।
যেখানে ঝরে পড়ে কেবল স্মৃতির ফুল,
আর বাতাসের দীর্ঘশ্বাসে মিশে থাকে,
অফুরান না-বলা অভিমান ও অব্যক্ত কথা।
আমি এখন যুগভেরী একজন প্রাক্তন স্বামী!
আমি বৈষ্ণবীর প্রেমের বৈরাগী! বৈরাগী!



