
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির দন্ড স্থগিত না হলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ অন্য কমিশনারবৃন্দ বক্তব্য দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে রুদ্ধদার বৈঠকে রিটার্নি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। সেখানে একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির দন্ড স্থগিত না হলে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির আপিল শুনানি চলমান থাকলেও তা আমলে না নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্বচ্ছ, অবাধ, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন করে ইতিহাস গড়ার জন্য রির্টানিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে নি। সেক্ষেত্রে ইসির পক্ষ থেকে আইন-কানুন খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানতে চান, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবে কিনা। মন্ত্রী-এমপিদের প্রটোকলের বিষয়টি কি হবে ইত্যাদি। এসব প্রশ্নে ইসি কিছু বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছে। বাকি কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত পরে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
ইসি সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ফলে মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। কেননা এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট বাড়ার ইস্যু তৈরি হতে পারে। আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টিও এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেননা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ভোটের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি নিয়েও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে এরপর কমিশনের আরেকদফা বৈঠক হবে নির্বাচনের আইনশৃংখলা সংক্রান্ত বিষয়ে। এর আগে মনোনয়ন জমা, বাছাই ও আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়েই উত্তপ্ত হতে পারে রাজনীতির ময়দান। তাই এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়ার কথা ছিল ইসির পক্ষ থেকে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয়ার্ধে ইসির পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিভিন্ন আইন-কানুন সম্বলিত পুস্তিকা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। হাতেগোনা কয়েকটি বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিষয়ে ইসির আইন শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতের সাজা উচ্চ আদালতে স্থগিত না হলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আপিল চলমান থাকলেও তা আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রশ্নের জবাবে কমিশনের একজন সদস্য বলেন, এ ধরনের বিষয় থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা পার্থিতা বাতিল করে দেবেন। পরে কমিশন বিষয়টি দেখবে। ইসি সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীর পক্ষ থেকে কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীর উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল সরকারি সুবিধাভোগী হিসেবে মন্ত্রী-এমপিদের প্রটোকলের বিষয়ে তাদের করণীয় কি?
জবাবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রার্থী হওয়ার পরে সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের কেউই সরকারি প্রটোকল পাবেন না। সব ধরনের সরকারি সুবিধা ত্যাগ করতে হবে। তাদের গাড়িতে পতাকাও উড়বে না। তবে যথাযথভাবে তাদের নিরাপত্তা দেবে স্থানীয় প্রশাসন।
কোনও মন্ত্রী যদি ওই এলাকার প্রার্থী না হন তিনি প্রটোকল পাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি কাজে তিনি প্রটোকল ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে নয়। সরকারি কাজে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলেও তা আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে। সেক্ষেত্রে এসব বিষয়ে দ্রুত কমিশনকে জানাতে হবে। কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদে থেকে নির্বাচনের সুযোগ পাবেন কিনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নেরও সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেন নি কমিশন। এ বিষয়ে কমিশন থেকে পরে পরিপত্র জারি করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
এদিকে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান কার্যক্রম। বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ, কাল বৃস্পতিবার সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ এবং পরদিন রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, এবার নতুন প্রেক্ষাপটে ভোট হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ হবে ভিন্ন।
তিনি বলেন, এর আগে দেশে কখনও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, কখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কখনও সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ সংসদ রেখে, সরকার রেখে এই নির্বাচন ২০১৪ সালে হলেও সেখানে সব দল অংশ নেয় নি।
সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচনে সব দল অংশ নিতে যাচ্ছে। যে কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্বও অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এখন থেকে ভোটের সব দায়িত্ব মূলত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। তাদের আন্তরিকতা থাকলে ইসির ভূমিকা নিয়ে জনগণের সন্দেহের কোনও কারণ থাকবে না।



