
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিলে আল্লামা কাফিল ওহাবীদের ইমাম নিয়োগ করবেন না
নিউইয়র্ক থেকে এনা: কেয়ামত পর্যন্ত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বন্ধ হতে দেবো না। আপনারা ওহাবীদের ইমাম নিয়োগ করবেন না এবং তাদের নিয়ে হজ্বে যাবেন না। ওহাবীদের ইমাম নিয়োগ করলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও মিলাদ হারাবেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিলে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আল্লামা কাফিল সরকার সালেহী এ কথা বলেন।
নিউইয়র্ক ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির আয়োজনে গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উদযাপন কমিটির আহবায়ক মাওলানা সৈয়দ সাজিদুল হকের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া এবং হাফিজ মাওলানা ওহী চৌধুরীর পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন উলামা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি আল্লামা জালাল সিদ্দিকী, প্রধান বক্তা বাংলাদেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক ইসলামি চিন্তাবিদ, টিভি ভাষ্যকার ড. আল্লামা কাফিল উদ্দিন সরকার সালেহী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মইন উদ্দিন মুহাদ্দিস। অমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুন নূর, মাওলানা সুন্নাতুর রহমান, মাওলানা সাব্বির আহমদ, মাওলানা খলিসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম, মাওলানা শরিফ উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস মঞ্জলালী, মাওলানা রুহান উদ্দিন, মাওলানা কাওসার আহমেদ, মাওলানা মশহুদ ইকবাল, ড. মাওলানা ফখরুদ্দীন, মাওলানা এনামুল হক, হাফিজ জুবায়ের আহমেদ রাজু, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সৈয়দ জুবায়ের আলী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, ডা. আব্দুল মালেক, এটিএম ফখর উদ্দিন, মাওলানা বোরহান উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।
ড. আল্লামা কাফিল উদ্দিন সরকার সালেহী বলেন, বিশ্বব্যাপী আজ মুসলমানরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নবী করিম (স:) এর বিরোধিতাকারীরা সোচ্চার। তাদের মধ্যে অনেকেই আজ দেশ ছেড়েছেন, তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে ইসলামের ক্ষতি করছে। তারা বলার চেষ্টা করছেন ঈদে মিলাদুন্নবী নেই। কিন্তু পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ছিলো, আছে এবং থাকবে। ইসলামে ছিয়াতে ছাত্তার ছয় জন ইমাম রয়েছেন। তাদের গ্রন্থেও ঈদে মিলাদুন্নবী রয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন, নবী করিম (স:)কে যারা ছোট করে তাদের তিনি পছন্দ করেন না। নবীদের জন্ম বৃত্তান্ত পবিত্র কোরআন শরিফে আছে। ঈদে মিলাদুন্নবী মানেই নবীর জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা। আল্লাহ স্বয়ং যেখানে অন্যান্য নবীদের বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (স:) এর জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে আমরা করলে অসুবিথা কোথায়? যারা বলে ঈদে মিলাদুন্নবী কোরআনে নেই, তারা আসলে কোরআনে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, মিলাদ করা ইমানের দাবি। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন নিজে যেখানে তার প্রিয় নবীকে ছোট করেননি, তোমরা কেন নবীকে ছোট করছে। তিনি বলেন, ওহাবীদের ইমাম নিয়োগ করবেন না এবং তাদের নিয়ে মদিনায় যাবেন না। তাদের ইমাম নিয়োগ করলে ঈদে মিলাদুন্নবী এবং মিলাদ হারিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী ছিলো, আছে এবং থাকবে। ঈদে মিলাদুন্নবী কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হতে দেবো না।
মাওলানা মুহাদ্দেস মইন উদ্দিন বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী মানে নবীর জন্ম উপলক্ষে খুশি। আমরা যদি ঈদে খুশি করতে পারি, নবীর জন্ম দিনে কেন খুশি করতে পারবো না? তিনি বলেন, আল্লাহ পাক সব কিছুর আগে নবীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত নবী থাকবেন। কিন্তু নবীকে মানুষ রূপে পাঠিয়েছেন অনেক পরে। হযরত আদম (আ:) ও তার আগে যে নবীর জন্ম সে কথা তিনি বলেছেন। মূলত: নবীর জন্যই এই পৃথিবীর সৃষ্টি। তিনি বলেন, এক শ্রেণীর লোকজন এখন বলার চেষ্টা করছে- লা ইলাহা ইল্লাল্লহ’র সাথে মহামাদুর রাসুল ইল্লাহ বলা যাবে না। আসলে এরা ইসলামের শত্রু, আল্লাহ এবং রসুলের শত্রু। তারা মুসলমান নামধারী এবং তাদেরও আমাদের মত দাড়ি এবং পোশাক রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেখানে আল্লাহপাক নবীকে বলেছেন, যেখানে আমার আলোচনা হবে সেখানে আপনারও আলোচনা হবে। নবীর প্রতি যাদের মহব্বত নেই, আসলে তাদের ইমান নেই।

মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া বলেন, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর আর্দশ লালন এবং পালন করা আমাদের দায়িত্ব। ঈদে মিলাদুন্নবীকে বিতর্কিত করার জন্যই এক শ্রেণীর লোক সিরাতুন্নবী নিয়ে এসেছে। তারা বলছে, ঈদে মিলাদুন্নবী নেই। এরা আসলে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। এই বিভ্রান্তি থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে।
মাওলানা মাশহুদ ইকবাল বলেন, হযরত মুহাম্মদ (স: ) আমাদের জন্য বড় নিয়মত।
ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহবায়ক হাফিজ এবাদুর রহমান চৌধুরী, হাজী শফিক উদ্দিন, হাফিজ জামশেদ হুসাইন, মুশাহিদ আলী, ওয়ালিউর রহমান, ক্বারী খালেদ মিয়া, জয়নাল আবেদীন, কয়েস আহমেদ, আতিকুল হক বেলাল, মাহমুদুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, আবিদুজ্জামান, ক্বারী মাহতাব আহমেদ, হাফিজ মাওলানা আব্দুল ওয়াকিল, মাসুম নূর, মাওলানা শাহান শাহ, সৈয়দ সায়েম, রাসেল আহমেদ, নূরুল ইসলাম প্রমুখ।



