
চিনের মুসলিমদের জন্যে আরও কড়া নির্দেশিকা দিল বেজিং
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট: চিনের এক শহরের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, যারা রাষ্ট্রবিরোধী, সন্ত্রাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ‘ইসলামি’ কাজ করেছে তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি করে তাহলে তাদের নরম দৃষ্টিতে দেখা হবে। এমন কি তাদের শাস্তি মওকুফও করে দেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, যেসব কাজকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে দোষ স্বীকারের আহ্বান জানানো হয়েছে সেসবের মধ্যে রয়েছে হারাম-হালালের বিষয়ে প্রচার চালানোর মতো কাজ। চিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ রয়েছে, চিনে উইঘুর, কাজাখ, হউই, উজবেক ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে আটক করে রেখেছে। চিনের ভাষ্য, তাদেরকে আটক করে রাখা হয়নি। বরং ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়ে চিনা সংস্কৃতিতে ‘অন্তর্ভুক্তকরণের’ প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে। চিনা সংস্কৃতিতে অন্তর্ভুক্তকরণ বলতে মূলত অপরাপর চিনা গোষ্ঠীগুলোকে হান জনগোষ্ঠীর ধর্ম, সংস্কৃতি, পোশাক, রাজনীতি এবং ভাষা গ্রহণে বাধ্য করছে চীন।
সম্প্রতি চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের হামি শহরের কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে দোষ স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে শুরু করে রক্ষণশীল ইসলামি রীতি মেনে চলার মতো কাজ করে থাকলে সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিজেদের সোপর্দ করা।
যেসব কাজগুলোকে রক্ষণশীলতা বা ইসলামি কাজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কোরান অনুযায়ী সারা জীবন কাটানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া, টেলিভিশন দেখতে বাধা দেওয়া, মদ্যপান-ধূমপান-বিয়ের আসরে নাচার বিরুদ্ধে কথা বলা, সরকারি পরিচয়পত্র প্রকাশ্যে ধ্বংস করা- প্রত্যাখ্যান করা, সরকার প্রদত্ত বাসস্থান ও ভর্তুকি প্রত্যাখ্যান করা এবং সিগারেট-মদকে হারাম বলে প্রচারণা চালানো।
রয়টার্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রদেশের রাজধানী উরুমকি গত মাসে এক প্রচার চালানো শুরু করেছে হালাল খাবার ও টুথপেস্টের দোকানের বিরুদ্ধে। কারণ কর্তৃপক্ষ এসব দোকানের উপস্থিতিকে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে ইসলামের উত্থান হিসেবে দেখছে।



