
ভিকারুননিসার শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় আটক শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে হাসনা হেনা যুক্ত নয়।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় পরিক্ষা শেষে স্কুলের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে এতে প্রতিষ্ঠানটির কোনও শিক্ষক অংশ নেন নি। শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক হাসনা হেনা নির্দোষ। অরিত্রির বাবা-মাও হাসনা ম্যাডামকে দোষী সাব্যস্ত করেন নি। কিন্তু যারা দোষী তাদের গ্রেপ্তার করা হয় নি। শিক্ষক হেনাকে ফাঁসানো হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে তার মুক্ত দাবি করে। মুক্তি না দেওয়া হলে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
এদিকে, অরিত্রির অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার পর অবশেষে গতকাল থেকে রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানা গেছে, ছাত্রীরা পরিক্ষার হলে গেলেও বাই গভর্নিং বডির সদস্যদের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করছেন অভিভাবকরা।
গত সোমবার শান্তিনগরের বাসায় অরিত্রী আত্মহত্যা করে। অভিযোগ ওঠে, অরিত্রী ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখা প্রধান ও শ্রেণী শিক্ষক নির্দয় আচরণ করেন, এ কারণেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) একটি টিম শিক্ষক হাসনা হেনাকে গেল ৫ ডিসেম্বর বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলার তিন নম্বর আসামী শিক্ষক হাসনা হেনা।
গ্রেপ্তারের পর হাসনা হেনা পুলিশকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তার কোনও দায় নেই। তার কাজ হল কোনও মেয়ে যদি ঝামেলা করে তাহলে তার বাবা-মাকে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে দাঁড় করানো। তিনি শুধু সেটাই করেছেন। অরিত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে তার কোনও কথাই হয় নি।



