
প্রধান খবরবিনোদন
মারা গেলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল
রূপসী বাংলা ঢাকা বিনোদন ডেস্ক রিপোর্ট: চলচ্চিত্র সম্পাদনায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিনেতা শিশির আহমেদ।
তিনি দুই মেয়ে, স্ত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তাকে এক নজর দেখতে হাসপাতালে ভিড় করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাইদুল আনাম টুটুলের দুই কন্যা ঐশী আনাম ও অমৃতা আনাম যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে ঐশী দেশে আসলেও অমৃতার আগািমকাল আসার কথা রয়েছে। তিনি দেশে আসলেই তার বাবার জানাজা এবং দাফনের সিদ্ধান্ত হবে।
সাইদুল আনাম টুটুল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হন গত ১৫ ডিসেম্বর শনিবার রাতে। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই আইসিউইতে স্থানান্তর করা হয়। তিনি ডা. মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
সাইদুল আনাম টুটুল সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ‘কালবেলা’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি এই সিনেমার দুই লটের শুটিং করে এসেছেন। আরও কিছু শুটিংয়ের কাজ বাকি ছিল। সেই সঙ্গে সিনেমাটির সম্পাদনার কাজও করছিলেন তিনি।
সাইদুল আনাম টুটুল একাধারে একজন চলচ্চিত্র সম্পাদক, নির্মাতা, নাট্যকার ও অভিনেতা। তিনি ১৯৭৯ সালে ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ সম্পাদকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি সালাউদ্দিন জাকির ‘ঘুড্ডি’, শেখ নেয়ামত আলীর ‘দহন’, মোরশেদুল ইসলামের ‘দুখাই’, ‘দীপু নাম্বার টু’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো সম্পাদনা করেন।
২০০১ সালে তিনি প্রথম সরকারি অনুদানে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘আধিয়ার’। আর নির্মাণাধীন ‘কালবেলা’ তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এ ছাড়াও সাইদুল আনাম টুটুল অসংখ্য নাটক রচনা, পরিচালনাসহ অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি টেলিভিশন নাট্য নির্মাতা সংগঠন ডিরেক্টস গিল্ডের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও আজীবন সদস্য ছিলেন।



