
কর্ণাটক কংগ্রেসকে হতাশ করে কঠীন সিদ্ধান্ত রাহুলের
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: জল্পনা উড়িয়ে দিলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া৷ জানিয়ে দিলেন, তার রাজ্যের বিদার লোকসভা থেকে নয়৷ কংগ্রেস সভাপতি লড়বেন তাঁর নিজের আসন আমেঠি থেকেই৷
উনিশের ভোটযুদ্ধে কর্ণাটকের বিদারে লড়তে পারেন কংগ্রেস সভাপতি৷ দিন কয়েক আগে বাতাসে এ খবর ঘুরছিল৷ হাত শিবিরের দাবি রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বিভ্রান্তির এই খবর ছড়িয়ে দিয়েছিল বিজেপি। গেরুয়াবাহিনীর সেই দাবি উড়িয়ে এদিন সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘‘আসন্ন লোকসভা ভোটে কর্ণাটক থেকে রাহুল গান্ধী ভোটে লড়বেন, এমন কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। উনি আমেঠি থেকেই শুধুমাত্র লড়বেন।’’

গত অগাস্টে বিজেপি নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা দাবি করেন, কর্নাটকের বিদার কেন্দ্র থেকে সম্ভবত ভোটে দাঁড়াতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি। যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জল্পনা উড়িয়ে বলেছেন, ‘‘বিদারে রাহুল গান্ধী জনসভা করেছিলেন, তার মানে এই নয় যে, তিনি সেখানে ভোটে লড়বেন।’’ প্রসঙ্গত, আমেঠি কেন্দ্র বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। যে কেন্দ্র থেকে টানা তিনবার জিতেছেন রাহুল।

আমেঠি বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি৷ গান্ধী পরিবারের হয়ে প্রথম ওই আসন থেকে লোকসভায় জেতেন ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধী৷ পরে রাজীব গান্ধী আমেঠি থেকে ভোটে লড়েন৷ ২০০৯ সালে এই কেন্দ্র থেকেই ভোটে জিতে ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে হাতেখড়ি সোনিয়ার৷ ২০১৪ সালে দেশের সংসদীয় গণতন্দ্রে প্রবেশ রাহুলের৷ ফলে আমেঠি ছেড়ে সোনিয়া দাঁড়ান রায়বেরেলি থেকে৷ আমেঠির মানুষ আস্থা রাখেন রাহুল গান্ধীতেই৷
২০১৪ থেকে হারতে হারতে বিপর্যয়ের প্রহর গুনছিল কংগ্রেস৷ ২০১৮-এ কর্ণাটকের বিধানসভা ভোটই হাত শিবিরের মরা গাঙে বান আনে৷ জেডিএসের সঙ্গে জোট গড়ে বিজেপির থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় কুমারস্বামী৷ প্রশংসা কুড়োয় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর ভূমিকা৷ তারপর গো-বলয়ের ভোট রাহুলের ‘নেতৃত্ব’কে সিলমোহর দেয়৷ পোক্ত হয় বিরোধী জোটের সম্ভাবনা৷ যা কিছুটা হলেও ধাক্কা বিজেপির কাছে৷ মনে করা হচ্ছে তাই কৌশলেই আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয় কংগ্রেস সভাপতির আসন বদলের প্রসঙ্গটি৷ সিদ্দারামাইয়ার কতায় তাতে অবশ্য এবার ইতি পড়ল৷



