
দিল্লিতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, কমছে পর্যটক
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির বাতাস ভয়াবহ রকমভাবে দুষিত হয়ে আছে। মূলত দিওয়ালির পর থেকেই সেখানকার বাতাস দূষিত হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাশের রাজ্যগুলোর কৃষকদের ফসল পুড়িয়ে ফেলার ধোঁয়া। সব মিলিয়ে দিল্লির অবস্থা এখন ভয়াবহ। তারই জের ধরে দিল্লির হাসপাতালগুলোতে ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
গণমাধ্যমের এক সমীক্ষা বলছে, রাজধানী নয়াদিল্লির ৪০ শতাংশ বাসিন্দা পাকাপাকিভাবে এ শহর ছেড়ে চলে যেতে চান। অন্তত ১৬ শতাংশ বাসিন্দা চান দূষণ ও ধোঁয়ার সময়ে শহরের বাইরে থাকতে। বায়ু দূষণের কারণে ৪৪ শতাংশ বাসিন্দা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
এদিকে,বায়ু দূষণ বিরোধী নান কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৯৯ হাজারটিরও বেশি জরিমানার ঘটনা ঘটেছে।
বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়াদিল্লিতে ‘নাগরিক প্রতিবাদ’ করেছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। বুধবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদ জানান কয়েকশ মানুষ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণ পরিস্থিতির অবনতি হলেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়ই নিস্ক্রিয় ছিল। যত দ্রুত সম্ভব বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
২০১০ সাল থেকে দফায় দফায় বেড়েছে দূষণের মাত্রা। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন বলছে, দিল্লির বাতাসের গুণগত সূচক-একিউআই-এর গড় ৭০৮। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। একিউআই-এর স্বাভাবিক উপস্থিতি হলো শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত।
পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্বত থেকে বয়ে আসা হাওয়া ও জলকণা, প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে ফসলি জমিতে খড় পোড়ানোর ধোঁয়া আর ধুলাবালি সব একসঙ্গে মিশে প্রতিবছর দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।
দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের আগ্রার দূরত্ব প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার। দিল্লির দূষণ পৌঁছে গেছে আগ্রাতেও। তাই তাজমহলের সৌন্দর্য রক্ষার্থে বাতাস বিশুদ্ধিকরণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে ভারত জুড়ে কমছে পর্যটকের সংখ্যা।



