কবিতাসাহিত্য

মফস্বলের চিঠি


জাহান আরা দোলন


একটা চিঠি লিখব ভাবছি,
নিতান্তই ক্ষুদ্র, মূল্যহীন, মেধাহীন
জীবনের কাছে বারবার হেরে যাওয়া
মফস্বলের অপাঙ্ক্তেয় আমি-টার
খুব খুব ভেতরে
ক্রমাগত জমে জমে বেড়ে ওঠে
আপাদ-মন-মস্তক আচ্ছন্ন করে থাকা
কিছু কথা আর কি
শহরের প্রাপক চিঠিটি পড়বেন কিনা
আমি জানি না
তবুও লিখতে ইচ্ছে করছে
…অনেক কথা বলার ছিল…।

শেষবার দেখা হয়েছিল স্টেশনে
ভোরের ট্রেন
আমাকে উঠিয়ে দিতে এসেছিলেন
যাবার বেলায় ট্রেনের তাড়াহুড়োয়
কিছুই বলা হয় নি
চলে আসবার আগের রাত্তিরে
সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্তর
গুছিয়ে নেওয়ার জেরে
দুই হাত ব্যথায় বিষ হয়েছিল
সবগুলোর বন্দোবস্ত শেষ করে
মাত্র দুটো ব্যাগ নিয়ে যাত্রা।

মোটামুটি কম কষ্টকর ব্যাগটা
আমার হাতে দিয়ে
ভারী ব্যাগটা বয়ে বয়ে
ভীষণরকম ঘামছিলেন
হাত দিয়ে মুছে দিতে চাইলাম
বারণ করলেন
টিস্যু দিতে চাইলাম
তাতেও বারণ!
কষ্ট হলো ভীষণ
ফেলে দিতে চাইলাম সবকিছু, টিস্যুগুলো।
আর এমন ভয়াবহ ক্ষেপে উঠলেন যে
কিছুই বলার জো রইল না
তাঁর নাকি স্টেশনে আসাটাই যেন ভুল!

চিঠি লেখা হয় না অনেককাল
মুঠোফোনেরর যুগ আসতেই
হঠাৎ করে কখন যেন
সবার সব চিঠিগুলো হারিয়ে গেল
একদিন হয়ত পোস্ট অফিসটাও
আর থাকবে না
কথা বলতে গেলেই
উনি অন্য প্রসঙ্গে চলে যান
অথবা স্পষ্ট ভাষায় বলে ওঠেন,
‘ছাড়, যেতে দাও,
বিতর্ক ভালো লাগে না।’
কিন্তু, কথাগুলো যে না বললেই নয়!



মাত্র দিনকয়েক আগে
তিনি তাঁর ভিন্ন সত্তাটির
উল্লেখে বুঝিয়ে দিলেন
তার ভেতরের সেই ভিন্ন মানুষটি
একেবারেই আরেকজন
সেখানে আমার কোনও অধিকার নেই
অথচ আমি ভাবতাম,
একই মানুষের অপর সত্তাটি হয়
একটি আরেকটির পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
স্টেশনে তিনি বললেন
তাঁর শরীরেও আমার অধিকার নেই।

একটা একটা করে
আমার সকল অধিকার
তিনি কেড়ে নিয়েছেন, নিচ্ছেন
ইদানিং কাঁচের আয়নায় তাকাতে পারি না
ভীষণ বিচ্ছিরি চেহারার
হাত পা বাঁধা একটা জন্তু
দেখতে পাই যেন
চোখটা বোধহয় একেবারেই গেছে
চশমাটা দোকান থেকে আনিয়ে
নিতে হবে এবার।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension