
বাংলাদেশিদের ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্ক মেয়র প্রার্থী এরিক অ্যাডামস সিনিয়র সিটিজেন সেন্টার ও ডে কেয়ার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস জানিয়ে বলেছেন, আমি বাংলাদেশিদের মেয়র প্রার্থী,
আমি স্প্যানিশদের মেয়র প্রার্থী, আমি সাউথ এশিয়ানদের মেয়র প্রার্থী, আমি আফ্রিকান আমেরিকানদের মেয়র প্রার্থী, সর্বোপরি আমি নিউ ইয়র্কবাসীর মেয়র প্রার্থী। আমি তাদের ভোটে এবং সহযোগিতায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয় লাভ করেছি। আমরা মাত্র প্রার্থী বাছাই পর্বে জয় লাভ করেছি। চূড়ান্ত নির্বাচন হবে আগামী ২ নভেম্বর।
এরিক অ্যাডামস বলেন, সেই নির্বাচনে আমি বাংলাদেশিসহ সকলের সহযোগিতা এবং ভোট প্রার্থনা করছি। আমি জয় লাভ করলে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করব।
গেল ২৭ আগস্ট বিকেলে স্ট্যানওয়ের এক কনস্ট্রাকশন অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আয়োজক এম আজিজ বাংলাদেশিদের জন্য সিনিয়র সিটিজেন সেন্টার এবং ডে কেয়ার সেন্টারের যে দাবি তুললে এরিক অ্যাডামস তা প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, সাবেক সভাপতি এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আজিজ ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট বিজনেসম্যান মইনুল ইসলামের আয়োজনে এই ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানটি এদিন বিকেলে স্ট্যানওয়ের এক কনস্ট্রাকশন অফিসে আয়োজিত হয়।
মূলধারার রাজনীতিবিদ মিসবাহ আবদীনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক কাউন্সিলওম্যান ক্যাথি রবিনসন, এম আজিজ, ফয়সাল আজিজ। অন্যদের মধ্যে ছিলেন ব্রুকলিনের সাবেক প্ল্যানিং
কমিশনার ঢালি উইলিয়াম, ডেপুটি কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট রোহন্ডাবিনদা, নিউ হকঅ্যান্ডসন্সের প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক, মাম’স রেস্টুরেন্টের অন্যতম স্বত্বাধিকারী লিটু চৌধুরী, বাংলা চ্যানেলের প্রেসিডেন্ট শাহ জে. চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, স্ট্রিট চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার ফৌজিয়া জে. চৌধুরী, নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ অফিসার রাশিক মালিক, ডা. মোহাম্মদ মেরাজুল হক সোহাগ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিজয় ইসলাম, ফারহিম আজিজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাজিমউদ্দিনপ্র মুখ।
মেয়র প্রার্থী এরিক অ্যাডামস বলেন, আমরা মাত্র প্রার্থী বাছাই পর্বে জয় লাভ করেছি। চূড়ান্ত নির্বাচন হবে আগামী ২ নভেম্বর। সেই নির্বাচনে আমি বাংলাদেশিসহ সকলের সহযোগিতা এবং ভোট প্রার্থনা করছি। আমি জয় লাভ করলে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করব। তিনি আরো বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইমিগ্র্যান্টরা যারা এসেছেন তারা ভালো মানুষ। তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য আমেরিকায় এসেছেন। তাদের সন্তানের ভালোভাবে মানুষ করার জন্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের স্বপ্নপূরণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে বর্ণবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক মুসলিম নারী হিজাব পরার জন্য হেউট ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। অনেককে শুনতে হচ্ছে গো ব্যাক টু ইওর হোম। এগুলো হচ্ছে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য দুঃস্বপ্নের বিষয়। নিউ ইয়র্ক সিটিতে হেইট ক্রাইম বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাছাই পর্বের নির্বাচনে আমাদের ১১ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, আগামী ২ নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য প্রায় ৭.২ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। যে কারণে ফান্ড রেইজিং করছি। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করব।
এম আজিজ আমেরিকায় এসে তার কঠিন জীবন সংগ্রামএবং স্বপ্নপূরণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি ৮০ দশকে যখন আমেরিকায় আসি তখন বাঙালি খুঁজে পেতাম না, এখন অনেক বাঙালি। আমাদের কমিউনিটি নানাভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। আশা করি আপনি সেই অধিকারগুলো পূরণ করবেন। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিনিয়র সিটিজেন সেন্টার এবং ডে কেয়ার সেন্টার। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি আপনার সাথে আছে এবং আগামীতেও থাকবে।
ফয়সাল আজিজ বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটির আগামীর ভবিষ্যৎ মেয়র এরিক অ্যাডামস আমাদের সামনেই
বসে রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি এখানে লেখাপড়া করে বাবার ব্যবসায় বসেছি এবং বাবার মতোই বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে রয়েছি। বিগত সময়ে সিটি থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটি কোনো
সহযোগিতা পায় নি। আশা করি আপনি মেয়র হলে আমাদের সব অধিকার নিশ্চিত হবে। অনুষ্ঠানে এরিক অ্যাডামসকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, মইনুল ইসলাম, ফারহিম আজিজ ও ফৌজিয়া জে. চৌধুরী।











