
জাতিসংঘ দূতের তালেবান সরকারকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার আহবান
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় আফগানিস্তান ‘পুরোপুরি ভেঙে পড়ার’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেবোরাহ লিওনস। তালেবান সরকার নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও আফগানিস্তানের প্রতি অর্থ প্রবাহ বন্ধ রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করে তালেবান সরকারকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি।
আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আটক রয়েছে। যা তালেবানদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেবোরাহ লিওনস বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, আফগান ‘অর্থনীতি এবং সামাজিক ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ভাঙন রোধ করতে’ দেশটিতে অর্থ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তিনি আরও বলেন যে, আফগানিস্তান একটি বড় আর্থসামাজিক ঝড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মান কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বেসরকারি ব্যাংকে নগদ টাকার অভাবসহ নানা সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। কর্তৃপক্ষেরও বেতন দেওয়ার মতো তহবিল নেই।
নিরাপত্তা পরিষদকে লিওনস বলেন, ‘আফগান অর্থনীতিকে আরও কয়েক মাসের জন্য শ্বাস নেওয়ার অনুমতি দিতে হবে, তালেবানদেরকে নমনীয়তা প্রদর্শনের সুযোগ দিতে হবে এবং মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ইস্যুতে তাদের যদি এবার সত্যিই ভিন্নভাবে কাজ করার ইচ্ছা থেকে থাকে তাহলে তাদের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়ে হবে। আর তারা যাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিলের অপব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা যেতে পারে’।
এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদেশি দাতারা আফগান সরকারের ব্যয়ের ৭৫ শতাংশেরও বেশি অর্থের জোগান দিত। কিন্তু গত ৩১ আগস্ট মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বলেছে যে, তারা আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ খালাস করা সহ যে কোন প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সহায়তা তালেবানদের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে, যারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে আসতে যায় তাদেরকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে দিতে হবে। তালেবানদের নিয়ন্ত্রণের পর কাবুল থেকে প্রথম বেসামরিক ফ্লাইট ১০০-রও বেশি যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার কাতারে অবতরণ করেছে।
ওদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও তালেবানদেরকে নতুন জরুরি রিজার্ভের ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিক জেফরি ডেলরেন্টিস নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, ‘তালেবানরা আন্তর্জাতিক বৈধতা এবং সমর্থন চায়। তবে, আমাদের বার্তা সহজ- যেকোনো বৈধতা এবং সমর্থন তাদের কাজ দিয়ে অর্জন করে নিতে হবে’।
তালেবানদেরকে কোটি কোটি ডলার জরুরি অর্থ সহায়তা দেওয়া রাশিয়া এবং চীন উভয়েই আফগানিস্তানের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘে চীনের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত গেং শুয়াং বলেন, ‘এই সম্পদ আফগানিস্তানের এবং তা শুধু আফগানিস্তানের জন্যই ব্যবহার করা উচিত, তালেবানদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়’।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) একটি কঠোর প্রতিবেদনের পরই লিওনস এর এই সতর্কবাণী এসেছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশটি সর্বজনীন দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে পারে। ইউএনডিপি বলেছে যে, প্রায় ৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির একটি। যে দেশের ৭২% মানুষ প্রতিদিন মাত্র এক ডলারে জীবন যাপন করেন।
আল জাজিরা



