আন্তর্জাতিক

ঘানায় মারবার্গ ভাইরাসে ২ জনের মৃত্যু

এখনো কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে আছে পুরো বিশ্ব। এর মধ্যে হানা দেয় মাঙ্কিপক্স। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কভিড-মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণের মধ্যেই এখন মারবার্গ ভাইরাস নামে আরেক অতিসংক্রামক প্রাণঘাতী ভাইরাসের কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরইমধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসি।

দুজন রোগীই সম্প্রতি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আশান্তি এলাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এ মাসের শুরুতে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেনেগালের একটি পরীক্ষাগারেও তাদের নমুনা যাচাই করা হয়েছে।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, মারবার্গ ভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা এমন সন্দেহজনক ৯৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আত্মীয়-স্বজন, চিকিৎসক এবং মরদেহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা, যারা দুই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন।

পশ্চিম আফ্রিকায় দ্বিতীয়বারের মতো এ মারবার্গ ভাইরাস শনাক্ত হলো। গিনিতে গত বছর একজন শনাক্ত হয়েছিলেন। সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পাঁচ সপ্তাহ পরে সেই প্রাদুর্ভাবটি সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল।

দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে ঘানার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সমর্থন করে প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচও’র আফ্রিকা পরিচালক ডা. মাতশিদিসো মোয়েতি বলেছেন, এটি ভালো কারণ অবিলম্বে এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ ছাড়াই, মারবার্গ সহজেই হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

ঘানার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্যাট্রিক কুমাহ-অবগায়ে আফ্রিকা রেডিওতে বিবিসি ফোকাসকে বলেছেন, এটি নিশ্চিত হতে মাঠে আমাদের বহু দল রয়েছে। আমরা ভাইরাসটির আসল উৎস খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছি।

ঘানার স্বাস্থ্য বিভাগ ও ডব্লিউএইচও জানায়, ভাইরাসটি বাদুড় থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়। সংক্রমিত ব্যক্তির থুতু বা অন্য তরল পদার্থ থেকে ভাইরাসটি মানুষে ছড়িয়ে পড়ে।

এজন্য তারা জনসাধারণকে বাদুড়ের বিচরণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সব ধরনের মাংসজাতীয় খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা আরো বলেছেন, বাদুড় খাওয়া ফল মারবার্গ ভাইরাসের প্রধান আমন্ত্রক।

মারবার্গের এখন পর্যন্ত কোরো চিকিত্সা আবিস্কার হয়নি। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, কেউ আক্রান্ত হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ডায়রিয়া, জ্বর, বমি বমি ভাব এবং বমির উপসর্গ দেখা দেয়। এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বর, যা ইবোলা ভাইরাস রোগের মতো এবং এতে মৃত্যুর হার ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত।

সংস্থাটি জানায়, এর আগে অ্যাঙ্গোলা, ডিআর কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উগান্ডাতে এ ভাইরাসে সংক্রমণ ও বিচ্ছিন্ন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। ২০০৫ সালে অ্যাঙ্গোলাতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসের সংক্রমণে।

১৯৬৭ সালে জার্মানিতে প্রথম মারবার্গ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল। ওই সময় এ ভাইরাসে সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension