
আমিই সেই নারী,
মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের সমান দাবিদার।
ওফ্স, দুঃখিত!
আমি তো তোমার কাছে নিছক দুর্বল-অবলা!
আমি তো সেই নারী যাকে ছুঁড়ে ফেলার জন্য
সর্বশেষ হাতিয়ার ‘দুশ্চরিত্রা’ উপাধি দাও,
ইনবক্সে অন্য নারীর উষ্ণ ছবির আশা নিয়ে
বউ হিসেবে পর্দাশীল যে রমণী খোঁজ—
আমিই সেই নারী!
যার ঘোমটা কিঞ্চিৎ ছোট হলে
তোমার মস্তিষ্কে খুনির অনল জ্বালিয়ে
অন্য রমনীর স্মার্টনেসে নিত্য বিস্মিত হও,
অথবা সুযোগে স্বর্গীয় আনন্দের খোরাক
অন্য কারো মাঝে খুঁজে বেড়াও,
অথচ বউয়ের কিঞ্চিত হাস্য কুশলাদিতে
যাকে প্রতিনিয়ত ‘চরিত্রহীনা’ অপবাদ নিতে হয়—
আমিই সেই নারী!
একুশ শতাব্দীতে বউয়ের হাতে এনড্রয়েড
মানে সে ‘ইনসিকিউরড’, ছিঃ! ছিঃ!!
যার পৃথিবীতে গমনের একমাত্র উদ্দেশ্য
রান্না ও সন্তান লালন বলে মনে কর,
অথচ তার আত্মর্নিভরশীলতা
অর্থনৈতিক সহায়তা তোমাকে নিশ্চিন্ত করে,
সাথে পুরুষ সহকর্মীটিকে নিয়েও
যাকে তুমি নিন্দিত করতে ছাড় দাও না—
হ্যাঁ, আমিই সেই নারী!
নিজ মাতা, ভগিনী ও কন্যা ব্যতীত
নারী মানেই চরিত্রে সমস্যা—
এমন মানসিকতায় দীক্ষিত সেই তুমিই
হাততালি কুড়াতে সমাবেশে, মজলিসে
নারী জাতিকে সম্মানের বড় বড় বুলি আওড়াও,
অথচ ঘরে তোমার অসম্মান-অমর্যাদা
যাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত-লজ্জিত করে—
আমিই সেই নারী!
আমরা নারী, প্রণয়ে, প্রলয়ে আমরাই
আগলে রাখি ধরণী ;
এখনই সময় মানসিকতা পরিবর্তনের
মনে রেখ—
আমরাও কারো রাজকন্যা,
যেমনটি তোমার কাছে, আমার কন্যাটি।



