
জীবনে কিছু নিভৃতচারী থাকে—
যাদের শূন্যতা মহাশূন্যের ন্যায় অসীম,
কোন প্রাপ্তির পূর্ণতাই তা ছুঁতে পারে না!
ধূ ধূ বিরান প্রান্তরের শূন্যতার মতো-ই
সারাজীবন স্থানটি অপূর্ণই রয়ে যায়!
জীবনের প্রয়োজনে পুরনো সম্পর্ক ভাঙে,
আবার সে ধ্বংসস্তুপে আস্তর লেপে
নতুন সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত বুননে স্বপ্ন বোনে,
তবুও কিছু প্রাচীনের অস্তিত্ব চিরকালই
অর্বাচীন রূপে নতুনের চেয়েও
বিস্তর জায়গা দখল করে থাকে!
রাত গহীনে সমস্ত পৃথিবী যখন
নৈশব্দের দখলে, তখন হিয়া মাঝে
প্রচণ্ড প্রতাপে কেউ শব্দের আলোড়ন তোলে,
জানান দেয় তার সদর্প উপস্থিতি!
হৃদগহীনে কান পাতলেই শোনা যায়
তার চিরচেনা কণ্ঠের কলতান।
নির্জনে একাকী যখন আনমনে
লব্ধ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব হয়,
তখন কে যেন বলে— ‘আমি আছি’
সমতালে পা রাখে যাপিত বাস্তবতায়।
বন্ধ চোখে দু’বাহু প্রসারিত করলেই
কে যেন বাহুডোরে এসে মাথা গোঁজে,
কে যেন অনবরত আওড়ায়—
‘পারো তো আমাকে ভুলেই দেখ!’
যতই প্রমাণিত হোক না কেন—
শূন্যস্থান পূরণ হয়ে যায়-ই,
আদতে কখনো, কোনভাবেই
কারো শূন্যতা অন্য কাউকে দিয়ে পূরণীয় নয়।



