
ভারতীয় তরুণদের মোদী প্রীতি কমছে
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কাজের সুযোগ ছাড়া তরুণদের কাছে মোদীর জনপ্রিয়তা কতটুকু? শুধুমাত্র হিন্দুত্বের রাজনীতি আর দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক লড়াই করেই কি তারা সন্তুষ্ট থাকবে?
২০১৩ সালে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রী রাম কলেজ অব কমার্সে দেওয়া বক্তৃতার মাধ্যমে তরুণদের কাছে মোদীর জনপ্রিয়তার সূচনা হয়েছিল। বক্তব্যে তিনি একটি নতুন উন্নত অর্থনৈতিক যুগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু বর্তমানে সেই স্বপ্নের দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
‘মিন্ট ইয়ুগভ সিপিআর’-এর এক সমীক্ষা অনুসারে, অধিকাংশ তরুণের ধারণা, অর্থনীতি এখন ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, *জেন জেড-দের ৪৫ শতাংশ এবং **মিলেনিয়ালদের ৪৪ শতাংশ অর্থনীতির গতিপথ নিয়ে চিন্তিত, এবং জেন জেড-দের ৩১ শতাংশ এবং মিলেনিয়ালদের ৩৬ শতাংশ অর্থনীতির গতিপথ বিষয়ে সন্তুষ্ট৷ এই পরিসংখ্যান বয়স্কদের সম্পূর্ণ বিপরীত। বয়স্ক ব্যক্তিরা অর্থনীতি বিষয়ে তাদের সন্তুষ্টি প্রদর্শন করেছেন যদিও সেটা একেবারেই প্রান্তিকভাবে।
ঘটনাচক্রে, বেশ কিছু শিক্ষিত তরুণ প্রথমে মোদীকে সমর্থন করলেও, তারা এখন প্রকাশ্যেই অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং মেরুকরণের বিষয়গুলোতে ক্রমাগত জোর দেওয়া প্রসঙ্গে তাদের হতাশা প্রকাশ করছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই, দিল্লি নির্বাচনে, বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের ওপর ‘আম আদমি পার্টি’ (এএপি)কে নির্বাচিত করতে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ভোটার দলের (১৮-২৫) ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির প্রতি তরুণদের এই অসন্তোষ বেশ কিছুদিন ধরেই দানা বেঁধেছে। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। গত বছরে প্রকাশিত এক সরকারি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতের দক্ষতাপূর্ণ যুবকদের ৩৩ শতাংশ কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। ‘লোকনীতি’র মার্চ ২০১৯ এর একটি সমীক্ষায়ও একই ঘটনা দেখা গিয়েছিল। সমীক্ষা অনুসারে বেকারত্ব ছিল ভোটের জন্য সর্বোচ্চ একক রাজনৈতিক সমস্যা। তারপরে, বালাকোট ঘটনার সৃষ্টি হয় এবং যুবকেরা ভারতীয় জনতা পার্টির শিবিরে ফিরে যায়।
কোভিড -১৯ এবং লকডাউনের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয় বেসরকারী খাতে নিযুক্ত তরুণদের পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সিএমআইই এর তথ্য অনুসারে, শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ চাকরিচ্যুত হয়েছে। নিজেদের কলেজগুলিকে বন্ধ হয়ে যেতে দেখে, ভবিষ্যত এবং বর্তমান সুযোগের সম্ভাবনা গুলোকে মিলিয়ে যেতে দেখে এবং ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে ভারতের অধিকাংশ তরুণ এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
ইউপিএ ২ (ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স) এর শেষ ভাগে, তরুণেরা যখন কংগ্রেসের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছিল, ঠিক সেই সময়ে একজন আকর্ষণীয় নতুন প্রার্থী ‘মোদী’ হঠাৎ করে এসে, তাদেরকে অভিভূত করে। সেই প্রার্থী এখন তার অভিনবত্ব এবং ঔজ্জ্বল্য দুটোই হারিয়ে ফেলেছে। তরুণেরা এখন আবারও অসন্তুষ্ট, কিন্তু মঞ্চে এখন আর অন্য কোন নতুন প্রার্থীর উপস্থিতি নেই।
*জেন জেড: ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০১০ এর দশকের প্রথম দিকে জন্মেছেন যারা।
**মিলেনিয়াল: ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জাহান আরা দোলন



