
ইরাকি দূতকে তলব করলো ইরান
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে সরকারি এক অনুষ্ঠানে ইরানের বিরোধীদলীয় গ্রুপগুলোর উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়েছে ইরান। ফলে তারা এ বিষয়ে নিন্দা জানাতে ইরানে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ইসনা (আইএসএনএ) বলেছে, ইরাকের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে তেহরান তার কঠোর আপত্তির কথা তুলে ধরেছে। বলেছে, ইরান ও ইরাকের মধ্যে সম্প্রতি নিরাপত্তা নিয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে সে অনুযায়ী ওই অনুষ্ঠানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোয় তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে ইরান। ইরান সরকারের বিরোধী কুর্দিদেরকে বর্ণনা করতে ইরান ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ’ শব্দ ব্যবহার করেছে। তারা এসব গ্রুপকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে।
ওই অনুষ্ঠানটি কুর্দি অঞ্চল আয়োজন করে। এর পরিচালনা করেন ইরানিয়ান কুর্দিদের একটি অংশ। ইরানের অভিযোগ কুর্দিদের এই অংশ পশ্চিমাদের সেবা করছে এবং ইসরাইলের হয়ে অতীতে কাজ করেছে। মার্চে ইরান ও ইরাক তাদের অভিন্ন সীমান্ত রক্ষায় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরের মাসে একে নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে স্বীকার করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রইসি। তিনি বলেন, ইরাক ও এর সীমান্তের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কুর্দি অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক সেন্টারে কুর্দিদের প্রয়াত নেতা মুস্তাফা বারজানির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এতে যোগ দেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট আবদেল লতিফ রশিদ এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে পুলিশি হেফাজতে ইরানে মারা যান ইরানি কুর্দি নারী মাহসা আমিনি। তার মৃত্যুতে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। পুরো ইরান উত্তাল হয়ে ওঠে। ফলে আন্তঃসীমান্ত মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে অপারেশন চালায় ইরান। ঘটনাটি গত নভেম্বরের।



