আন্তর্জাতিক

ডায়ানার মৃত্যুতে চার্লসের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘লটারি জেতার মতো’

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তার প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর ‘লটারি বিজয়ীর’ মতো উচ্ছ্বসিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন ডায়ানার ভাই চার্লস স্পেন্সার। তার প্রকাশিতব্য বইয়ের নতুন অংশে এ দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বইটির ওই অংশ প্রকাশ করা হয়।

চার্লস স্পেন্সারের দাবি, ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের কথাবার্তায় তিনি অস্বাভাবিক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করেছিলেন। তার মনে হয়েছিল, চার্লস যেন লটারি জেতার পর আনন্দিত কারও মতো কথা বলছিলেন।

স্পেন্সারের ধারণা, ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস হয়তো মনে করেছিলেন, এবার তিনি তার পছন্দের নারীকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা পাবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত বইয়ের অংশে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার বইটির প্রথম কিছু অংশ প্রকাশের পর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর জবাবে বিরল এক প্রতিক্রিয়া জানায় রাজপরিবার। রাজা চার্লসের এক মুখপাত্র বলেন, শোক মানুষের যুক্তিবোধ, বিচারবোধ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে বইয়ের সর্বশেষ অংশ প্রকাশের পর রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে রাজার কোনো নতুন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বইটির নতুন অংশে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনের দক্ষিণ উপকূলে আত্মহত্যার জন্য পরিচিত একটি স্থানে ডায়ানা একাধিকবার গিয়েছিলেন। তবে তার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারির প্রতি ভালোবাসা তাকে আরও এগিয়ে যাওয়া থেকে থামিয়ে দিয়েছিল।

স্পেন্সার লিখেছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক সত্য যে, জীবনের শেষ দিকের বছরগুলোতে ডায়ানা একাধিকবার নিজে গাড়ি চালিয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ চুনাপাথরের সমুদ্রখাড়া পাহাড় বিচি হেডে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিজের জীবন শেষ করার কথা ভাবতেন।

১৯৯৭ সালে ৩৬ বছর বয়সে মারা যান ডায়ানা। ফটোগ্রাফারদের মোটরসাইকেলে ধাওয়া থেকে বাঁচতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর সময় প্যারিসে সেই গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। গাড়িতে ডায়ানার সঙ্গে ছিলেন তার প্রেমিক দোদি আল-ফায়েদও।

ডায়ানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বইয়ে উল্লেখ করেছেন স্পেন্সার। তিনি লিখেছেন, অন্য যারা আমাকে ফোন করেছিলেন, তারা হতবাক ছিলেন। শোক ও সাহায্যের প্রস্তাব জানাতে তাদের কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত শোনাচ্ছিলেন—আমার তখন মনে হয়েছিল, যেন তিনি লটারি জিতেছেন।

স্পেন্সার আরও লিখেছেন, এখন পেছন ফিরে তাকালে আমার মনে হয়, ওই ঘটনার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রিন্স হয়তো ডায়ানার মৃত্যুতে একজন মানুষকে হারানোর বিষয়টি উপলব্ধি করার চেয়ে, এই ঘটনা তাকে তার ভালোবাসার নারীকে বিয়ে করার জন্য কতটা স্বাধীন করে দিতে পারে, সেটিই বেশি ভেবেছিলেন।

১৯৯২ সালে চার্লস ও ডায়ানা আলাদা হয়ে যান এবং ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২০০৫ সালে চার্লস ক্যামিলাকে বিয়ে করেন।

বুধবার বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র বলেন, নীতিগতভাবে তারা কোনো বই নিয়ে মন্তব্য করেন না। তবে রাজা মনে করেন, কাছের মানুষকে হারানোর শোক মানুষের চিন্তাভাবনা, বিচারবোধ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি প্রিয়জনকে হারানোর বহু বছর পরও এর প্রভাব থাকতে পারে, যা অন্যরা বুঝতে নাও পারেন।

সূত্র: রয়টার্স

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension