লালন সাঁইজির গান নিয়ে নিউ ইয়র্কে ‘মাটির গান’-এর ‘সাধুমেলা’
হুমায়ূন কবীর ঢালী, নিউ ইয়র্ক:
বাংলার সমৃদ্ধ লোক-ঐতিহ্য, মরমি বাউল দর্শন এবং মানবতার চিরন্তন বাণীকে প্রবাসের মাটিতে ধারণ ও লালনের প্রত্যয়ে নিউ ইয়র্কে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মাটির গান’। সহজ মানুষ সাঁইজির জীবনদর্শন, গান, মানবতাবাদ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রবাসী বাঙালি সমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কর্মশালা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
সেই মহতী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গত ৭ জুন, রবিবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘মাটির গান’-এর প্রথম সার্থক ও বর্ণাঢ্য আয়োজন ‘সাধুমেলা’।
বাংলাদেশ থেকে ভিডিও বার্তায় সাধুমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন লালন সাঁইজির মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী ও দেশবরেণ্য লোক সংগীত শিল্পী দিল আফরোজ রেবা।
লালন সাঁইজির প্রতিকৃতিতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন বিশিষ্ট তবলাবাদক দেবী চৌধুরী এবং ‘মাটির গান’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট বাউল শিল্পী শাহীন হোসেন।
বাউল শিল্পী শাহীন হোসেনের আন্তরিক উদ্যোগ ও দক্ষ নির্দেশনায় সংগঠনের একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী লালন সঙ্গীতের একক ও দলীয় গান পরিবেশন করেন। সাঁইজির আধ্যাত্মিক ভাবধারা ও সুরের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানস্থল এক অলৌকিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে রূপ নেয়, যা উপস্থিত সুররসিক শ্রোতাদের গভীরভাবে মুগ্ধ ও আলোড়িত করে।
‘মাটির গান’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লালনের দর্শন কেবল সাধারণ কোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়; এটি মানুষের ভেদাভেদ, জাতি-ধর্ম-বর্ণের প্রাচীর ভুলে পরম মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এক অনন্য ও সর্বজনীন আহ্বান। সেই উদার চেতনাকে বুকে ধারণ করেই সংগঠনটি নিউ ইয়র্কের বুকে নিয়মিত লালনচর্চা ও বাংলার আবহমান লোকসংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”— সাঁইজির এই মহান মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে ‘মাটির গান’ প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বাংলার মাটি, মানুষ ও শেকড়ের সংস্কৃতির এক অপূর্ব সেতুবন্ধন রচনায় দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘মাটির গান’-এর এই যাত্রা বাংলার লোক-ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে আরও গৌরবান্বিত করবে বলে উপস্থিত সুধীজন আশা ব্যক্ত করেন।
ছবি










