
বেঁকে গেছে আজ সিন্ধু নদীর মোহনা,
একদিন এইখানে অতীতের অনেক অঙ্গনা
করেছিল জলকেলি; হায়,
তাহাদের পদচিহ্ন মিশে গেছে ধূসর ধুলায়।
আজ তারা কেহ নেই বেঁচে
জোছনার অদ্ভুত আলোয় নেচে নেচে
ঘুমায়ে পড়েছে সব অপূর্ব অপ্সরী;
সময়ের সব সূর্যঘড়ি
থেমে গেছে বয়স হয়েছে পৃথিবীর।
কামিনী ফুলের গন্ধে জোনাকির ভিড়
এখনো আমায় মুগ্ধ করে,
এখনো সন্ধ্যার নীলাম্বরে
ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে নিবিড় নিঃসঙ্গ সন্ধ্যাতারা;
থেমে যায় মানবিক কোলাহল, তখন কাহারা
মদিরার পাত্র হাতে বসে থাকে নক্ষত্রের নিগুঢ় ছায়ায়?
রাত্রি চলে যায়
রেখে যায় পৃথিবীর বুকে তাহাদের বদনাম;
তবুও ঝর্ণার ধারে বালক খৈয়াম
বসে আছে অন্ধ সময়ের মুখোমুখি।
কেহ নয় সুখি
এই পৃথিবীতে, কেহ নয় পরাজিত;
তথাপি কাঙ্ক্ষিত
ভবিষ্যৎ যেন মরিচিকা,
আমাদের প্রেমের পবিত্র দীপশিখা
অবেলায় নিভে গেছে, ডুবে গেছে পূর্ণিমার শশী।
হে আমার অতৃপ্ত উর্বশী,
তোমার নৃত্যের কামনার ঝংকারে
উতলা হয়েছে বারেবারে
আমার যৌবন।
এখনো আমার মনের সংগোপন
ঘরে তোমার আবক্ষ মূর্তি;
সীমাহীন ফুর্তি
করে গেছি আজীবন অমাবস্যা আর জোছনার
রাতে; সেই অমার্জিত পাপের চিতার
উত্তপ্ত অনলে পুড়ে গেছে আজ সমস্ত সঞ্চয়।
ভেঙে গেছে আমার হৃদয়,
আজ আমি অনুতপ্ত, সময়ের ক্ষত
হয়ত-বা পূরণ হবে না, হয়ত-বা অবিরত
দোলা দেবে মনে বেদনার পারাবার।
শাশ্বত সন্ধ্যার
আলো পৃথিবীতে বয়ে আনে এক নতুন আমেজ;
আমাদের প্রেম আজ হয়ত নিস্তেজ
হয়ে গেছে, ঝরে গেছে প্রেমের পরাগ।
সে-দিনের সেই অনুরাগ
মরে গেছে আমাদের—এই পৃথিবীর
কোথাও তাহারে পাবে না আবার; সময়ের তীর
বিদ্ধ করে, রিক্ত করে, স্তব্ধ করে মন।
আজ আর নয় আবেগের আস্ফালন
আর নয় বৃথা অঙ্গীকার
হে আমার প্রিয়তমা—হয়ত তোমার
সন্মুখে দাঁড়াব আমি পৃথিবীর অন্তিম সন্ধ্যায়!



