
আমি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ভালোবাসি: চাক শুমার
নিউ ইয়র্কের সিনেটর চাক শুমার বলেছেন, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি দিন দিন বাড়ছে। আমি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ভালোবাসি। কারণ তারা আমেরিকায় বিশ্বাস করে। বাংলাদেশি জনগণ ওয়ান্ডারফুল, তারা স্বপ্ন দেখে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তায়ন করে। তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন মানেই জ্যাকসন হাইটসের উন্নতি, জ্যাকসন হাইটসের উন্নতি মানেই নিউইয়র্কের উন্নতি আর নিউইয়র্কের উন্নতি মানেই আমেরিকার উন্নতি।
গেল শুক্রবার (৪ মার্চ) জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন এনওয়াইসির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে সিনেটর চাক শুমার প্রধান অতিথির বক্তবে এসব কথা বলেন।
নিউ ইয়র্কের উডসাইড এলাকার গুলশান টেরেসে আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীসহ সর্বশ্রেণির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেবিবিবিএ’র সভাপতি হারুণ ভূঁইয়া। উপস্থাপনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, পরিচালক রুহুল আমিন সরকার, অনুষ্ঠানের সদস্য সচিক মোহাম্মদ নমি আলম ও সোনিয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণনান, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটেলিনা ক্রুজ, নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান জেনিকা গঞ্জালেস রোজাস, কমিউনিটি বোর্ড থ্রি চেয়ারম্যান ফ্যাঙ্ক, কুইন্স ডেমোক্রেটিক লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, নিউ ইয়র্ক মেয়র অফিসের প্রতিনিধি দিলিপ চৌহান, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির প্রতিনিধি রোকেয়া আক্তার, কাউন্সিলওম্যান জেনিফার রাজকুমারের কমিউনিটি লিয়াজোঁ মোহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আব্দুল মুকিত চৌধুরী, আহসান হাবিব, ইভেট ফিল্ডার, বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব, বাংলা চ্যানেলের প্রেসিডেন্ট শাহ জে জে চৌধুরী, হক এন্ড সন্সের প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক, মেগা হোম রিয়েলিটির মঈনুল ইসলাম, ডা. তৌহিদ শিবলী, মূলধারার রাজনীতিবিদ মাজেদা উদ্দিন, শাহজালালের কল্লোল, পুতুল ডিস্ট্রিবিউটরসের মিলন, বিসমিল্লাহর রাফাত, মুনলাইটের মাসুম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি চাক শুমার তার বক্তব্যে আরও বলেন, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি দিন দিন বাড়ছে। আমি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ভালোবাসি। কারণ তারা আমেরিকায় বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের মানুষ চমৎকার, তারা স্বপ্ন দেখে ও সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নও করে। তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন মানেই জ্যাকসন হাইটসের উন্নতি, জ্যাকসন হাইটসের উন্নতি মানেই নিউ ইয়র্কের উন্নতি আর নিউ ইয়র্কের উন্নতি মানেই আমেরিকার উন্নতি।
সিনেটর আরও বলেন, বাংলাদেশিরা এই দেশে এসেছেন তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে। তারা তাদের সন্তানদের আমেরিকার নিয়মে মানুষ করছেন। তিনি বলেন, আমার দাদা নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালাতেন। আমি জানি তাদের কষ্ট। এই নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ট্যাক্সি ড্রাইভার রয়েছেন। তারা উন্নত জীবন গড়তে কঠোর পরিশ্রম করছেন। তারা সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন।
চাক শুমার ফাহাদ সোলায়মানের সন্তান সাফিনকে দেখে বলেন, সাফিন একটা ভালো নিয়মের মধ্যে বড় হচ্ছে। তার বাবা তার জন্য কষ্ট করছে। একদিন সে আমেরিকার জন্য ভালো কিছু করবে। বাংলাদেশিদের ভালোবাসি বলেই আমি বিচারপতি নুসরাত চৌধুরীকে বিচারপতি পদে নিয়োগ দিয়েছি। আমার বাবা স্টল বিজনেস করত। আমি দেখেছি তার সংগ্রাম। এই কারণেই আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পিপিপি লোনের ব্যবস্থা করেছি। এখন ফান্ডে অর্থ নেই। আবার ফান্ড হলে আবারো লোন দেয়া হবে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
ক্যাটেলিনা ক্রুজ বলেন, এটাই হচ্ছে আসল জেবিবিএ। কারণ আমি এই এলাকার প্রতিনিধি। আমি দীর্ঘদিন ধরেই এদের সাথে কাজ করছি। করোনার সময় এদের নিয়ে আমি খাদ্য বিতরণ করেছি। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার পর জ্যাকসন হাইটসে ছুটে এসেছি। বিভিন্ন মসজিদে গিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলে মুসলমানদের মসজিদে আসা যাওয়া নিশ্চিত করেছি।
জেসিকা গঞ্জালেস বলেন, আমি নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানাই। আমি এদের সঙ্গে আগে কাজ করেছি। আগামীতেও করব।
শেখর কৃষ্ণনান বলেন, আমাদের এই লড়াই অনেক দিনের ছিল। আপনারাদের সহযোগিতায় আমি জ্যাকসন হাইটস এলাকা থেকে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নিজের কমিউনিটি মনে করি। যে কারণে নিউ ইয়র্ক পাবলিক স্কুলে বাংলা র্যাগুয়েজ চালুর জন্য কাজ করছি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণের ক্ষেত্রে কাজ করছি। আমার অফিসে বাংলাদেশি প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছি। মূলত আপনারই আমার শক্তি।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী আগামীর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে সিনেটর চাক শুমারকে এন্ডোস করে বলেন, সিনেটর চাক শুমার দিনরাত কাজ করছে আমাদের জন্য। তিনিই আমাদের প্রকৃত বন্ধু।
অনুষ্ঠানে সিনেটর চাক শুমার, ক্যাটেলিনা ক্রজ, শেখর কৃষ্ণনান এবং জেসিকা গঞ্জালেসের হাতে জেবিবিএ’র পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন জেবিবিএ’র সভাপতি হারুণ ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলম নমি, বাংলা চ্যানেলের শাহ জে চৌধুরী, মোহাম্মদ ফজলুল হক, মঈনুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, উপদেষ্টা মীর নিজামুলক হক, উপদেষ্টা ইশতিয়াক রুমি, ডা. তৌহিদ শিবলী, মাজেদা উদ্দিন, মোহাম্মদ আজাদ, কবাবু খান, মনসুর চৌধুরী, হারুণ সেলিম, লিটু চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান সাবেক সভাপতি এবং আহ্বায়ক মোহাম্মদ পিয়ার। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পূর্বে তিনি বলেন, এই সংগঠন আমরাই প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আজকে এই পর্যায়ে এসে আমরা পৌঁছেছি। জেবিবিএ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তাতে আমরা বিচলিত নই। আমরাই আসল জেবিবিএ- আজকের অনুষ্ঠান তাই প্রমাণ করে। তিনি নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। অভিষিক্ত কর্মকর্তারা হলেন প্রেসিডেন্ট হারুণ ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর আর চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট বাবু খান, আবু নোমান শাকিল, মোহাম্মদ আলম নমি, জে আর চৌধুরী লিটু, মোহাম্মদ আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, শাহরিয়ার আরিফ, কোষাধ্যক্ষ সেলিম হারুণ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বাদশা, কালটারাল সেক্রেটারি খন্দকার সেন্টু, সোস্যাল
ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন, মাসুদ রানা তপন, পাবলিকেশন সেক্রেটারি শাহ্ চিশতি, পাবলিসিটি সেক্রেটারি সুবল দেবনাথ, মহিলা সম্পাদিকা নীলুফার শিরিন, সদস্য কামরুজ্জামান বাচ্চু, সাজ্জাদ হোসেন, মোর্শেদ এসএম মাসুদ, শনাতন শীল, ফ্যাড রকি, মোহাম্মদ ইদ্রিস, আব্দুল হামিদ, শাখাওয়াত বিশ্বাস, হুমায়ুন কবীর, সফিউদ্দিন মিয়া, জোসী চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলাম রনি, আমিন ম্যাক, শ্যামল নাথ।
পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় উপদেষ্টাদের। যাদের মধ্যে ছিলেন মইনুল ইসলাম, একেএম ফজলুল হক, আব্দুর রউফ দিলীপের স্ত্রী, ডা. তৌহিদ শিবলী, আজিজুল চৌধুরী, ইশতিয়াক রুমী, মীর নিজামুল হক, সারওয়ার চৌধুরী এবং মাজেদা উদ্দিন।
এছাড়া পরিচালকরা ছিলেন মোহাম্মদ পিয়ার, কাজী মন্টু, আনোয়ার জাহিদ, রাশিদ আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, রফিক আহমেদ, কামরুজ্জামান কামরুল, এম কে রহমান, রুহুল আমিন সরকার।
অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, সাফিন ও ফৌজিয়া জে. চৌধুরী।




