মুক্তমত

একজন তাজউদ্দীন আহমদ ও বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন সরকার

আয়শা সাথী


মুজিবনগর সরকার যা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার’ বা ‘প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার’ নামেও পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী সংগঠন ও সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং সহায়তাকারী রাষ্ট্র ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক রক্ষায় এই সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনকে ত্বরান্বিত করে মুজিবনগর সরকার।

‘ভারত সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের একটা পূর্ব যোগাযোগ ছিল’- তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের অন্যতম মঈদুল হাসান তার ‘মূলধারা ৭১’ গ্রন্থে এই তথ্য উল্লেখ করেছেন। ওই গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ’৭১-এর ৬ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ঢাকাস্হ ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার কেসি সেনগুপ্তের সঙ্গে দেখা করেন। দুর্যোগে পড়লে ভারত বাংলাদেশকে কীভাবে কতটুকু সাহায্য-সহায়তা করবে, ওই বৈঠকে তাই নিয়ে আলোচনা হয়।

এই বৈঠকের পর কেসি সেনগুপ্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লি যান এবং ঢাকা ফিরে তাজউদ্দীন আহমদকে আশ্বস্ত করেন যে, পাকিস্তান সামরিক আঘাত হানলে ভারত যথাসম্ভব সহযোগিতা করবে। ভারতীয় সাহায্যের রূপরেখা কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ২৪ মার্চ তাঁদের পুনরায় মিলিত হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ওই বৈঠকটি আর অনুষ্ঠিত হতে পারে নি। এই অসমাপ্ত সংলাপের কারণে মুক্তিবাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং ভারতের মাটিতে মুক্তিবাহিনীর নিরাপদ ঘাঁটি গঠনের বিষয়টি আর স্থির হতে পারে নি।

ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীন আহমদ লুঙ্গি পাঞ্জাবি পরে কাঁধে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে এবং আরহাম সিদ্দিকীর দেওয়া রইফেলটি ঘাড়ে নিয়ে নিজ বাসা থেকে বের হন। এর মাধ্যমে বোঝা যায় তাজউদ্দীন আহমদ আগেই রাইফেল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদ, ড. কামাল হোসেন ও আমীর-উল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর পরামর্শ অনুযায়ী অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলোতে সকল কর্মসূচি প্রণয়ন করতেন। এই তিনজন ২৫ মার্চ রাতে এক বাড়িতে একত্র হওয়ার কথা থাকলেও ড. কামাল হোসেন শেষ পর্যন্ত ওই রাতে নির্ধারিত বাড়িতে একত্রিত হন নি। পরে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকেন।

দুই রাত একদিন পাকিস্তানি মিলিটারির অতর্কিত হামলার কারণে এক জায়গায় অবস্থান করে ২৭ মার্চ তাজউদ্দীন ও আমীর-উল ইসলাম ঢাকা ছাড়েন। এ দুজন নানা স্হান পাড়ি দিয়ে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ঝিনাইদহে এসে উপস্থিত হন। ৩০ মার্চ বিকেলে তাঁরা মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ও ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন আহমদকে নিয়ে ভারতীয় সীমান্তে পৌঁছালে সেখান থেকে তারা স্থানীয় বিএসএফের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে একটি বার্তা পাঠান। কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিএসএফ কমান্ডার এসে তাঁদের বিএসএফের ছাউনিতে নিয়ে যান এবং বিএসএফের আঞ্চলিক প্রধান গোলক মজুমদার তাজউদ্দীন আহমদ এবং আমীর-উল ইসলামকে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে নিয়ে যান। ৩১ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে কলকাতায় বিএসএফের সর্বভারতীয় প্রধান কে এফ রুস্তমজির সঙ্গে তাঁদের দেখা হলে তিনি তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওই রাতেই একটি সামরিক বিমানে তাঁরা দিল্লি চলে যান। ঘটনাচক্রে প্রফেসর রেহমান সোবহান ও প্রফেসর আনিসুর রহমানও একই উদ্দেশ্যে দিল্লি আসেন। খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির উপদেষ্টা শ্রী অশোক মিত্রের সাহায্য নেন। তিনি যোগাযোগ করিয়ে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শক্তিধর মুখ্য সচিব পিএন হাকসারের সঙ্গে। ৩ এপ্রিল রাতে তাজউদ্দীন সাহেব জানতে পারেন পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁদের সাক্ষাৎকার। তবে তাকে বন্ধু-সুহৃদরা আগে থেকেই তৈরি করেছিলেন। তিনি যেন বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ছয় দফার প্রেক্ষিতে তাঁরা যে দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সেনাশাসকরা তা অস্বীকার করায় স্বাধীনতা ঘোষণা করা ছাড়া তাঁদের উপায় ছিল না।

৪ এপ্রিল ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎকালে তাজউদ্দীন আহমদ জানান, বঙ্গবন্ধুকে সেনাশাসকরা গ্রেফতার করার ফলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মন্ত্রিসভা গঠন করতে ইচ্ছুক। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী যুক্তিটি গ্রহণ করেন এবং বাংলা ও বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সফল করতে তিনি বিপুল সহায়ক শক্তি হিসাবে অবদান রাখেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের পরামর্শে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপ্রধান, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপ্রধান করে তাজউদ্দীন আহমদ নিজেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। শত্রুর হাতে বন্দি বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করলেও তখনও দেখা না মেলা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি করাটা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

অতঃপর ১০ এপ্রিল কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে অফিস স্থাপন করে তাজউদ্দীন আহমদ মন্ত্রিসভা গঠন করেন। ইতোমধ্যে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে যুব ও ছাত্র নেতৃবৃন্দসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা কলকাতা পৌঁছে তাজউদ্দীন আহমদের প্রধানমন্ত্রী হওয়াসহ সরকার গঠনের ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে কলকাতার আকাশবাণী বেতারে ১০ এপ্রিল প্রচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ রেকর্ড করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠনের কথা বেতারের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জেনে যায়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পূর্বাপর পরিস্থিতি বর্ণনা করে এক গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অমূল্য দলিল হিসেবেই বিবেচিত হয় এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে এটি অসামান্য শক্তির সঞ্চার করে।

১০ এপ্রিলের পর প্রথমে এম মনসুর আলী ও কামারুজ্জামান, তারপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আবদুল মান্নান এবং আরও পরে খোন্দকার মোশতাকসহ অন্য নেতারা কলকাতা পৌঁছেন। মোশতাক আহমেদ ও যুবনেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানসহ আরও অনেকের সমর্থন ও সহযোগিতায় তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষিত সরকার শেষপর্যন্ত বহাল থেকে যায়। প্রথম সাক্ষাতের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে মতবিনিময় করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সরকারের আবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতা দানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। অতিশয় দ্রুততার সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন খুবই সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের দু দফা বৈঠকের পর এপ্রিল মাসেই ভারত সরকার ২টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে-
১.ভারত সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়া।
২.বাংলাদেশ সরকারকে ভারতীয় এলাকায় রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা চালানোর অধিকার প্রদান।

১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে অনাড়ম্বরভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেশ-বিদেশের মিডিয়ার উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং তদানুসারে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার তোরজোর শুরু হয়। ইতোমধ্যে সরকারের প্রশাসন ব্যবস্থাপনা কাঠামো নির্ধারিত হতে থাকে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধিকর্তা, শিল্পী, সাহিত্যিক, গায়ক, বিচারক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিকল্পনা প্রণয়নকারী, উকিল, মোক্তার, ব্যবসায়ী কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে যোগ দিতে থাকেন।

১৭ এপ্রিল ভোরের দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এমএজি ওসমানী গাড়িতে কলকাতা থেকে মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অনুষ্ঠানের জন্য ছোট্ট একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। মঞ্চে উপবিষ্ট হন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যরা, এমএজি ওসমানী, আবদুল মান্নান ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের বিশেষ সহযোগী এম আমীর-উল ইসলাম। স্বাধীনতার ঘোষণা ও আইনের ধারাবাহিকতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সোহরাব হোসেন। আবদুল মান্নান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম রচিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী। সৈয়দ নজরুল ইসলাম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ তাৎক্ষণিকভাবে গর্বের সাথে প্রবাসী সরকারের রাজধানীর নামকরণ করেন ‘মুজিবনগর’। যুদ্ধকালে সরকারি নথিতে লেটার হেডে লেখা থাকত ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, মুজিবনগর’। তৎকালীন সরকারের প্রশাসনিক ঠিকানা ছিল এই মুজিবনগর।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভা নিম্নরূপে গঠিত হয়:
রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা, বেতার, শিক্ষা: তাজউদ্দীন আহমদ
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ
অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী: এএইচএম কামরুজ্জামান
প্রধান সেনাপতি: জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী

এর সাথে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়াও ন্যাপের অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও কমিউনিস্ট পার্টির শ্রী মনি সিংহ অন্তর্ভুক্ত হন। আব্দুস সামাদ আজাদ, আব্দুল মালেক উকিল, আব্দুল মান্নান, ফণীভূষণ মজুমদার, এম আর সিদ্দিকী, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আমীর-উল-ইসলাম বার অ্যাট ল’ প্রমুখকে বিভিন্ন কমিটিতে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। তাছাড়া কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ড. এআর মল্লিক, একে খান, খান সরওয়ার মুর্শিদ, ড. এ করিম ও মাহবুব আলম চাষীকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে কলকাতা থেকে আগত সাংবাদিকদের প্রধান প্রশ্ন ছিল সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায়? জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। তাঁর সঙ্গে আমাদের চিন্তার বিস্তর যোগাযোগ রয়েছে।’

আমবাগানের অনুষ্ঠানে ভরদুপুরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার লোক জমায়েত হয়। হাজারো কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হচ্ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ ইত্যাদি স্লোগান। ২৫ এপ্রিল মুজিবনগর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত মুজিবনগর ছিল মুজিবনগর সরকারের রাজধানী। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম রচিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আরেকটি অমূল্য দলিল হয়ে রয়েছে।

দুঃখজনক বিষয় হলো, গত ৫৩ বছরে কোনো সরকারের আমলেই মুজিবনগর সরকার এবং ওই সরকারের নেতৃবৃন্দদের সঠিক মূল্যায়ন হয় নি। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কারাগারে তৎকালীন আওয়ামী লীগের এই চারজন সিনিয়র নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্দ্বিধায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল । দিনটি প্রতিবছর ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসাবে পালিত হয়। এর সাথে আমরা আরও প্রত্যাশা করি প্রতি বছরের ১৭ এপ্রিল, মুজিবনগরে সরকারিভাবে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হোক। আমরা মনে করি, এটি প্রতিটি বাংলাদেশি জনগণের প্রত্যাশা। মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতি আমাদের পীড়া দেয়। তবে একথা সত্যও যে কেউ স্মরণ করুন আর না করুন, স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস রচনা করতে গেলে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু মুজিবের পরে অবধারিতভাবে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং যুদ্ধকালীন সরকারের মন্ত্রী মনসুর-কামারুজ্জামানের নাম গৌরবের সাথে স্মরণে আসবেই। কারণ, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের একটি অংশকে অনুজ্জ্বল রেখে অন্য অংশগুলো দ্যুতি ছড়াতে পারে না।

তথ্যসূত্র:
১. ‘মূলধারা ৭১’ – মঈদুল হাসান।
২. ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন (অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর) এর লিখিত কলাম।
৩.এম. আমীর-উল ইসলাম ( প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের বিশেষ সহায়ক ও পরামর্শক) এর লিখিত কলাম।
৪. উইকিপিডিয়া

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট, বরগুনা থেকে

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension