
এগিয়ে মোদির দল, আতঙ্কে সংখ্যালঘুরা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ভারতে বুথফেরত জরিপে দেখা গিয়েছিলো মোদির দল বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতে সরকার গঠন করতে চলেছে। বৃহস্পতিবার ভোট গণনা শুরু হতেই জরিপের আভাস মিলছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে এগিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। এই খবরে আতঙ্কিত সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমরা।
উত্তরপ্রদেশের নয়াবাঁসের কয়েকশো মুসলিম পরিবার জানিয়েছে, মোদি ফের ক্ষমতায় এলে তারা গ্রাম ছাড়বেন। কারণ হিসেবে গ্রামের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, আগের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি আর গ্রামে নেই। আগে যেখানে হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন একসঙ্গে বাস করতেন৷ জন্ম হোক কিংবা মৃত্যু, বিয়ে হোক বা যে কোনও অনুষ্ঠান–একে অন্যকে পাশে পেতেন সকলে।
সর্বধর্ম সমন্বয়ের ঐতিহ্যকে আগলে বাঁচতেন এখানকার মানুষ। কিন্তু বর্তমানে সেই ছবি পুরোটাই বদলে গেছে। এখন আর পথ চলতে দেখা হলেও, কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। বিপদ আপদে কেউ কারও পাশেও থাকেন না। ধর্মের বেড়াজালই যেন এখন মূল ইস্যু৷ আর তাই এহেন সিদ্ধান্ত।
গ্রামেরই এক বাসিন্দা চা দোকানের মালিক গুলফাম আলি বলেন, ‘এর আগে জীবনের দুঃসময় এবং সুসময়ে হিন্দু–মুসলমান সকলে একসঙ্গে থাকতাম। যে কোনো অনুষ্ঠানে যেমন একসঙ্গে আনন্দ করেছি। তেমনই দুঃখের দিনে একে–অপরের পাশে থেকেছি৷ কিন্তু বর্তমানে আমাদের জীবনধারা কেমন যেন বদলে গিয়েছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন যোগী আদিত্যনাথ। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদের অন্যতম রূপকার এই দুজনই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘হিন্দু–মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য দু’জনের। এভাবে এই এলাকায় বাস করা যায় না।’
কিন্তু বললেই তো আর বসতভিটে-ব্যবসা ছেড়ে চলে যাওয়া যায় না, তাই যেতে পারছেন না বলেও দাবি তার৷ গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দার বক্তব্য, আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। রমজান পালন করছেন সকলেই। অনেকেই আবার বলছেন, রোজা পালন করতেও নাকি বারবার বাধা পাচ্ছেন তারা। মাদ্রাসায় মাইকের ব্যবহার বন্ধ করতে নাকি চাপ দেওয়া হচ্ছে তাদেরভ শান্তির জন্য অনেক মাদ্রাসা বাধ্য হয়ে মাইকের ব্যবহার বন্ধও করে দিয়েছে। আর তাই আগামী ২৩ মে আবারও বিজেপি ক্ষমতায় আসলে নয়াবাঁস ছাড়ার কথা ইতিমধ্যেই ভেবে ফেলেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বী গ্রামবাসীরা।
সূত্র: আজকাল



