
এশিয়ার সবথেকে বড় ৬টি স্টেডিয়াম
এশিয়ার শীর্ষ ছয় স্টেডিয়ামের বিবরণ তুলে ধরা হলো:-
১) উত্তর কোরিয়ার রাংগ্রাডো মে ডে স্টেডিয়াম
অফিসিয়াল নাম:– রাংগ্রাডো ফাস্ট অফ মে স্টেডিয়াম
দর্শক ধারণ ক্ষমতা:– ১,১৪,০০০জন
আয়তন:– ২০.৭ হেক্টর (৫১ একর)
এশিয়ার সব থেকে বড় স্টেডিয়াম হলো উত্তর কোরিয়ার রাংগ্রাডো মে ডে স্টেডিয়াম। এটি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের রাংগ্রা দ্বীপে অবস্থিত। ১৯৮৯ সালের পহেলা মে এটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ঐ দিনেই পুরো দেশ জুড়ে স্টেডিয়ামটির উদ্বোধনী দিন উদযাপন করা হয়।
১৯৮৯ সালে এই স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ১৩তম বিশ্ব কিশোর ও শিক্ষার্থী মেলা আয়োজন করা হয়। আটদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ২২,০০০ প্রতিনিধি ও দর্শনার্থী অংশ নেয়।
বর্তমানে এই স্টেডিয়ামটি ফুটবল, বিভিন্ন অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক সমাবেশ বা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
২) বুকিত জালিল স্টেডিয়াম
অফিসিয়াল নাম:– বুকিত জালিল ন্যাশনাল স্টেডিয়াম
দর্শক ধারণ ক্ষমতা:– ৮৭,৪১১জন
আয়তন:– ১০৫×৬৮ মিটার (ভেতরের মাঠ)
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই স্টেডিয়াম মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবথেকে বড় এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম স্টেডিয়াম। ১৯৯৮ সালে কমনওয়েলথ গেমসের প্রাক্কালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মালশিয়ার তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ।
এই স্টেডিয়ামে কমনওয়েলথ গেমস, এএফসি এশিয়া কাপ, সাউথ এশিয়ান গেমস ২০০১, ২০১৭ ইত্যাদি সহ বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ স্পোর্টিং ও কালচারাল ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বর্তমানে এটি মালয়শিয়া ফুটবল দলের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩) শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম
অফিসিয়াল নাম:– শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম বা কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়াম (নির্মাণাধীন)
দর্শক ধারণ ক্ষমতা:– ১,০০,০০০ (প্রস্তাবিত)
আয়তন:– ৫৫ একর
বাংলাদেশের সবথেকে বড় ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম এটি। এর নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। কাজ শেষ হলে এটি হবে পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম স্টেডিয়াম। কক্সবাজার গলফ কোর্স থেকে জায়গা লিজ নিয়ে এই স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হচ্ছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ২০১৪ আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-২০ কাপের ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হলেও নির্মাণাধীন থাকার কারণে এতে কোন খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
তবে ঐ বছরেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দলের মধ্যে একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৬ সালে আইসিসি অ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়। আশা করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে।
৪) শাহ আলম স্টেডিয়াম
অফিসিয়াল নাম:– শাহ আলম স্টেডিয়াম
দর্শক ধারণ ক্ষমতা:– ৮০,৩৭২
আয়তন:– ৫৫ একর
এটি মালোশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশে অবস্থিত। এটি ফুটবল গ্রাউন্ড হলেও এখানে বিভিন্ন ধরণের অ্যাথলেটিক গেমসের আয়জোন করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৯৪ সালে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
স্টেডিয়ামটি দেখতে যতোটা নান্দনিক এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ততোটাই উন্নত। আধুনিক সকল রকমের সুযোগ সুবিধা যুক্ত করে একে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে একাধিকবার মালোয়শিয়া জাতীয় ফুটবল কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫) বেইজিং ন্যাশনাল স্টেডিয়াম
অফিসিয়াল নাম:– ন্যাশনাল স্টেডিয়াম, চীন বা বার্ডস নেস্ট স্টেডিয়াম
দর্শক ধারণ ক্ষমতা:– ৯১,০০০
আয়তন:– ৩৩৩×২৯৪×৬৯ মিটার
আসন্ন ২০২২ শীতকালীন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের আয়োজন করা হচ্ছে এখানে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে এই স্টেডিয়ামে গ্রীষ্ম অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট, জাতীয় অনুষ্ঠান এখানে আয়োজন করা হয়। পাখির বাসার অনুকরণে তৈরি স্টেডিয়ামটি সকল প্রকার আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ।
৬) সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়াম
অফিসিয়াল নাম:– সর্দার প্যাটেল গুজরাট স্টেডিয়াম বা মতেরা স্টেডিয়াম (পুনঃনির্মানাধীন)
দর্শক ধারণ ক্ষমতা:– ১,১০,০০০ (প্রস্তাবিত)
আয়তন:– ৩৩০×৬৯.২ মিটার
সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে অবস্থিত সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়ামকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জিসিএ)।
৬৩ একর জায়গা জুড়ে স্টেডিয়াম পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজি। যার দর্শক ধারণ ক্ষমতা ১,০০,০২৪। ভারত ঘোষণা করেছে তাদের সর্দার প্যাটেল স্টেডিয়াম হবে পৃথিবীর সব থেকে ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের সাথে এই স্টেডিয়াম ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে। এখানেই ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ১০ হাজার রানের রেকর্ড গড়েছিলেন।









