
কবিহতেচাও?
কতবড় দুঃসাহস তোমার
কতবার ডুবেছ কীর্তণখোলায়
কতবার ভেসেছ গঙ্গায়
কতবার টুকরো টুকরো করে ভেঙেছ নিজেকে
নিজের হাতে একদম নিজের মতো করে?
ভাঙাগড়ার খেলায় আকাশটাকে ভেবেছ মাটির দেয়াল
পরিপূর্ণ বিশ্বাসে।
কবি হতে চাও?
কতবার উন্মত্ত উন্মদ ছুটেছ
যোজন যোজন পথ জিব্রাইলের
ডানায় চড়ে মহাকাশের অসীম সীমায়
কতবার এঁকেছ ভগবান বুকে পদচিহ্ন
দুঃসাহসী অভিযাত্রার মহানায়ক
ভেবেছ নিজেকে কতবার?
কেউ নেই কোথাও একাকী তবুও
এক বুক বিদ্রোহে চেতনায় বলে উঠেছ
নিজেরই অজান্তে কতবার
বিশ্ব ছাড়ায়ে জেগেছো
একা একা কী মহাবিদ্রোহে।
উচ্ছিষ্ট খাবার নিয়ে খেলা করে
যে ছিন্নমূল শিশু গভীর রাতের বুকে
নির্জন ডাস্টবিনে ল্যাম্পপোস্টের আবছাআলোয়
দেখেছ কি তার মুখ?
কতবার আপন করে নিয়েছ তাকে বুকে তুলে বাহুবন্ধনে?
বলেছ ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’
কবিহতেচাও?
তবে এসো মানবিক কবি নতুনের কবি
খোল তোমার বজ্রমুষ্ঠি আকাশ বাতাস
অনুরণিত করে হাতে হাত ধরে তবে বল সদর্প অঙ্গীকারে।
কবিতার কোন সীমান্ত নেই, মারনাস্ত্রের বিপরীতে
অসম্ভব শক্তিশালী মানবিক কবিতার ছন্দ বিন্যাস অন্তরালে।
অসহায় শিশুটির বাসযোগ্য করে যাব
সাম্যের পৃথিবী, ধরণীর মাটি।



