
করাচির চিনা কনস্যুলেটে জঙ্গি হামলায় ৭ জন নিহত
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক, আন্তর্জাতিক রিপোর্ট: জঙ্গি হানায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির চিনা কনস্যুলেট। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এ হামলায় মারা পড়েছে কমপক্ষে সাতজন। তাদের মধ্যে তিন জঙ্গি ছাড়াও রয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য এবং দুই বেসামরিক নাগরিক। তারা পিতা-পুত্র বলে জানা গেছে।
করাচির অভিজাত এলাকা ক্লিফটন বিচের কাছাকাছি সুরক্ষিত রেড জোন নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থিত চীনা কনস্যুলেট ভবনটি। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে প্রথম চিনা কনস্যুলেট ভবন থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় কনস্যুলেট ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তেও দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে কনস্যুলেট ভবনের প্রবেশপথে অবস্থিত নিরাপত্তা চেকপোস্টে হামলা চালায়।এ সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া পুলিশ ও জঙ্গিদের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে প্রাণ হারান বেসামরিক নাগরিক দুই পিতা-পুত্র। হামলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কনস্যুলেট ভবনে পৌঁছায় আধাসামরিক বাহিনী। পরে কনস্যুলেট ভবন এবং আশপাশের এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মারা পড়ে তিন জঙ্গি। হামলার ঘটনায় কনস্যুলেট ভবনে থাকা সব চীনা দূতাবাস কর্মী এবং বেসামরিক নাগরিক নিরাপদে রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চীনা কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি হামলাকে ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। এছাড়া হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানে সব চীনা নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
কনস্যুলেট ভবনে কর্মরত চীনা নাগরিকরাই শুক্রবারের করাচি হামলার প্রাথমিক টার্গেট ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাকিস্তানে বর্তমানে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন কাজ চলছে। এ সব প্রকল্পে কাজ করছেন কয়েক হাজার চীনা নাগরিক। চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে চীনা ঋণের পাকিস্তানে এসব প্রকল্পের কাজ চলছে। পাকিস্তানের সংঘাতপ্রবণ বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ গোয়েদার গভীর সমুদ্র বন্দর। প্রদেশটিতে তৎপর জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শুরু থেকেই এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ করে বেলুচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে পৃথক করে আলাদা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে তারা। এর আগেও বেলুচিস্তানে চীনা-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের বিভিন্ন প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
শুক্রবারের হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ।



