নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র

গাজা প্রতিবাদের কারণে শিক্ষার্থীদের কঠোর শাস্তি, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের ক্ষোভ


হোসনেআরা চৌধুরী

শতাধিক শিক্ষার্থী সাসপেনশন ও বহিষ্কারের মুখে; প্রশাসনের দাবি—“একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন”, অভিভাবকদের অভিযোগ—“ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে দমন”

নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আবারও তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একশোরও বেশি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাইয়ে, যখন ঐতিহাসিক বাটলার লাইব্রেরির সামনে ‘বাজেল আল-আরাজ পপুলার ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচি (teach-in) আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা, লিফলেট বিতরণ ও পাঠচক্র আয়োজন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, এই কর্মসূচি সরাসরি পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তাই “শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।”

কিন্তু অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে মনে করছেন। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জেফ মেলনিক ও জুলিয়েটে লামালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “আমাদের সন্তানরা মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে। এটি শুধু শাস্তি নয়, ইতিহাসের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।”

সমালোচকরা মনে করছেন, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ইতিহাসে যেমন ১৯৬৮ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৮৫ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছিল, এবার সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের এই প্রচেষ্টা একাডেমিক স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

হাইলাইটেড কোটেশন (সাইড বক্স)

“আমাদের সন্তানরা মানবতার জন্য দাঁড়িয়েছে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শাস্তি দিচ্ছে।”
— শিক্ষার্থীদের অভিভাবক

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension