প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

চেয়ারপারসন বিহীন বিএনপি!

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: দুই মামলায় উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত থেকে দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়ার থাকার কোনও আইনি বৈধতা নেই বলে মনে করেন আইনজীবীরা। এদিকে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত।  তাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে থাকার বৈধতা নেই তার। ফলে দলটি এখন আইনত চেয়ারপারসন শূন্য।

তারা বলছেন, বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  এর ফলে তাদের আগের গঠনতন্ত্রই এখন বহাল আছে। ওই গঠতন্ত্রের ৭ ধারা অনুসারে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কেউ দন্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি দলের কোনও পদে থাকতে পারবেন না। আর দলের শীর্ষ পদে থাকার তো প্রশ্নই আসে না।  তাই দলটির শীর্ষ পদ অর্থাৎ চেয়ারপারসনের পদ এখন শূন্য।’

কিন্তু চেয়ারপারসন পদ নিয়ে এসব যুক্তি মানতে রাজি নন বিএনপি নেতারা। নেতাদের বক্তব্য, সরকারের ওপর মহলের চাপে একটি মিথ্যা অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়ার যে শাস্তি হয়েছে, তা নিছকই একটি রাজনৈতিক মামলা। রাজনৈতিক কারণে ও রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার সুগভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।  যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। তাছাড়া, নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও খালেদা জিয়ার দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করাকে দলটির নেতারা আইনের কোনও ব্যত্যয় বলেও মনে করেন না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক দুই বারের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘খালেদা জিয়াই বিএনপির আইনগত চেয়ারপারসন। এটা নিয়ে কোনও ধরনের প্রশ্নের অবকাশ নেই, ব্যাস।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের অন্যতম অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বললেন, ‘সরকার তো কত কিছুই করতে চাচ্ছে, করতে চায়। এসব নিয়ে ভাবাভাবির কিছু নেই। বেগম খালেদা জিয়াই দলের আইনগত চেয়ারপারসন। এ নিয়ে প্রশ্ন নেই। তার দয়িত্বপালনও আইনের কোনও বরখেলাপ নয়।’

একজন দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপি প্রধানের দায়িত্বপালন আইনে না হোক, নৈতিক কিনা জানতে চাইলে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এখানে নৈতিকতার কোনও বিষয় নেই। আর দায়িত্বপালন করাটাও নৈতিকভাবে কোনও অন্যায় নয়।’

বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির আইনগতভাবে চেয়ারম্যান এই জন্য যে, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার বিধিবদ্ধ নিয়ম, তাতে সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ স্তরটা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগে উনার যদি সাজা বহাল থাকে ঠিক তখনই তাকে বলা যায় যে, উনি দন্ডপ্রাপ্ত। এর আগে পর্যন্ত সর্বোচ্চ এতটুকু বলা যায়, উনি প্রাথমিকভাবে দন্ডিত। প্রাথমিকভাবে দন্ডিত হলে, এটাকে কোনও সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায় না। সুতরাং, এই হিসেবে উনি আমাদের আইনগত অভিভাবক। আর তারেক রহমান সাহেব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর মহাসচিব তো অফিসিয়াল এক্সিকিউটিভ হিসেবে স্বাক্ষরগুলো করেন সব সময়। নির্বাচন কমিশনে এবারও তিনিই তাই (স্বাক্ষর) করবেন।’

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেছেন, ‘বিএনপি নেতাদের এসব যুক্তি সঠিক নয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক এই সদস্য বলেন, ‘যে কোনও পর্যায়ের আদালতই যখন কোনও ব্যাক্তিকে সাজা দেয়, সেটা অবশ্যই মেনে নিতে হবে। আপিল বিভাগ সর্বশেষ স্তর। সেখানে অব্যাহতি পেলে বলতে পারবে যে তিনি খালাস। এর আগ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যার ফলে পূর্বের গঠনতন্ত্রই এখন বহাল আছে। আর পূর্বের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা অনুসারে দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত কেউ বিএনপির কোনও পদে থাকার আইনগত বৈধতা নেই। তাই দলটির শীর্ষ পদ অর্থাৎ চেয়ারপারসনের পদটি বর্তমানে আইনত শূন্য আছে।’

প্রসঙ্গত, জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত। এদিকে অর্থ পাচার মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদন্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদন্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ১৬ জুলাই ২০১৬ সালে এই রায় দেন আদালত। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে অবস্থান করছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দিয়েছেন।

এদিকে, কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে নির্বাসনে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension