
জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিন: মেহবুবা মুফতির চিঠি
জম্মু-কাশ্মীরের প্রতিজন মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। এ দাবিতে তিনি শনিবার প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। ২০১৯ সাল থেকে খেয়ালখুশিমতো জম্মু ও কাশ্মিরের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি চন্দ্রচূড়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু।
চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থের নাম নিয়ে ভারত সরকার কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। এতে জম্মু ও কাশ্মীর উদ্বিগ্ন। সেখানে পাসপোর্ট ইস্যু করতে অস্বীকৃতি এবং পাসপোর্ট কেড়ে নেয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। বলেন- ‘আমার প্রবীণ মায়ের পাসপোর্ট সরকার খেয়ালখুশিমতো মুলতবি করে রেখেছে। এ বিষয়ে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে আমরা আবেদন করেছি। তারপর দুই বছরের বেশি পাড় হয়েছে।
আমাদেরকে তারিখের পর তারিখ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত দৃষ্টিগোচর হয়নি। আমার মেয়ে ইলতিজা এবং আমার পাসপোর্টও স্থগিত করা হয়েছে। এসব আমি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছি। যদি একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন এমপি হিসেবে আমার নিজের মৌলিক অধিকার যদি এই হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি একবার কল্পনা করুন। আমার মা-ও একজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর স্ত্রী। অজ্ঞাত কারণে তার পাসপোর্টও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে’।
চিঠিতে তিনি বলেছেন, পাসপোর্ট পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। পূর্ণ দায়মুক্তি দিয়ে তা আটকে রাখা হয়েছে। মেহবুবা মুফতি আরও লিখেছেন- ‘সাংবাদিকদের জেল দেয়া হচ্ছে। এমনকি দেশ ছাড়তে বিমানে উঠতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এমনকি পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া একজন তরুণ ফটোসাংবাদিককে বিদেশে যেতে দেয়া হয়নি’। এই চিঠিতে তিনি জেলে থাকা সাংবাদিক ফাহাদ শাহ এবং সাজাদ গুলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাদেরকে আনলফুল একটিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট এবং পাবলিক সেফটি আইনের অধীনে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।
মেহবুবা মুফতি বিচারবিভাগ নিয়ে বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা হলো বিচারবিভাগ। সেখানে তাদের আশা ক্রমশ ম্লান হচ্ছে। তার কথায়- দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, বিচার বিভাগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা উৎসাহমুলক নয়, আস্থা সৃষ্টি করতে পারছে না। একই সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন- যেকোনো সভ্য সমাজে সত্যকে সমুন্নত রাখা হলো আদর্শ। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং কথা বলার স্বাধীনতার ইস্যুটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএপিএ’র মতো কুখ্যাত সন্ত্রাস বিরোধী আইন নিষ্ঠুরভাবে ঠুনকো এবং সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং তরুণ-যুবকদের শায়েস্তা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারের সব এজেন্সিকে। এর মধ্যে আছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা সিবিআই। বিচারহীন অবস্থায় জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে কয়েক শত তরুণ-যুবক জেলে পচছে। তাদের পরিবারগুলো দরিদ্র। ফলে তাদের অবস্থা নর্মিম। তাদের কোনোই আইনি সহায়তা নেই।
মেহবুবা মুফতি দেশের প্রধান প্রধান বিচারপতির কাছে দেশের, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এই চিঠি লিখেছেন।



