
জামিনে মুক্ত কারাগার থেকে বেরিয়ে এলেন পরীমণি
জামিনে মুক্ত চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণি অবশেষে কারাগার থেকে বেরিয়ে এলেন। তার মুক্তির অপেক্ষায় স্বজনেরা বুধবার ভোর থেকে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসেছিলেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের সামনে।
মঙ্গলবার মাদক মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই পরীমণির মুক্তি পাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। জামিনের দিনই মুক্তি পাচ্ছেন সেই আশায় ছিলেন স্বজনেরা। আজ ভোর থেকে কারাফটকে পরীমণির স্বজন থেকে শুরু করে উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জানান, পরীমণিকে কারাগার থেকে নিতে তার খালু জসীমউদ্দিনসহ সাত-আটজন স্বজন এসেছিলেন।
অবশেষে তাদের প্রতীক্ষার প্রহর ফুরোল। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হন নায়িকা।
কারা ফটক থেকে একটি সাদা গাড়িতে করে বের হতে দেখা যায় পরীমণিকে। এ সময় তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন।
তারও আগে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমণির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। পরে তার আইনজীবীরা এ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এরপর জামিন শুনানির দিন এগিয়ে ৩১ আগস্ট ধার্য করা হয়।
গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মাদক মামলায় তিন দফায় সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।
৪ আগস্ট বিকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন পরীমণি। এ সময় র্যাবের পক্ষ থেকে পরীমণিকে তার বাসায় অভিযানের কথা জানানো হয়। কিন্তু তিনি লাইভে এসে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালানো শুরু করেন।
লাইভে পরীমণি বলেন, আমি ঘুমাইতেছিলাম। বাসার নিচে মেইনগেটে সব ভাঙচুর করে তারা ওপরে চলে আসছে। এখন বাসার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা করছে। বারবার কলিংবেল বাজাচ্ছে। পুলিশসহ কেউ শুনছে না, আমি সবাইকে ফোন করলাম, কেউ আসছে না।
মরে গেলে আসবেন ভাই? তিনি আরও বলেন, আমার মনে হচ্ছে এরা ডাকাত। একেক জনের একেক রকমের চেহারা। এরা যদি ডাকাত হয় কী করবেন? আমি এটার ভয় করছিলাম। আমি আজ লাইভ কাটব না।
এখানে থানা থেকে আসতে কতক্ষণ লাগে? মানুষ কি মরে যাবে? তারা নাকি কেউ জানে না, কোন থানা থেকে আসছে, সিআইডি না র্যাব কেউ কিছু বলতে পারছে না।
পরীমণি সবার উদ্দেশে আরও বলেন, আমি বুঝতেছি না আমি মরে গেলে আসবেন? আমি তো হার্টআট্যাক করব। ব্রেনস্ট্রোক করে মরে যাব। এটা একদম টর্চার। লাইভে থেকে আলোচিত এই চিত্রনায়িকা কারও একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
তখন তাকে বলতে শোনা যায়, আমি মরে যাব। আর পৃথিবী দেখব না! আমি লাইভ কাটব না। আমি দেখিয়ে মরব। আমার সঙ্গে কেউ কিছু করে পার পাবে না। আর মেরে ফেললে তো কোনো কিছু করার নেই।
২০১৪ সালে সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমণি এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমণিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।



