
জার্মানিতে ইসলামি সংস্কৃতির জায়গা নেই: নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রূপসী বাংলা ডেস্ক:সরকার গঠন হতে না হতেই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন জার্মানির নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তার কথা শুনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামোফোবিয়া ঢুকে পড়েছে জার্মান সরকারের ঘরের ভেতরও৷
একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার বলেন, জার্মানির সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে খ্রিষ্টান সংস্কার৷ সে কারণেই রবিবার এখানে দোকানপাট বন্ধ থাকে৷ প্রতিটি খ্রিষ্টান পর্বের দিন এখানে ছুটি ঘোষণা হয়৷ বস্তুত, জার্মানি খ্রিষ্টানদের সংস্কৃতি অনুসরণ করেই এত দিন ধরে চলছে৷ সেখানে ইসলামের কোনো জায়গা নেই৷
তবে পাশাপাশি তিনি এ কথাও বলেন, ইসলামি সংস্কৃতির সঙ্গে মুসলিম নাগরিকদের গুলিয়ে ফেললে চলবে না৷ জার্মানিতে বহু মুসলিম বসবাস করেন৷ তারা জার্মান৷ কিন্তু তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি জার্মান সংস্কৃতি নয়৷
হঠাৎ কেন এ কথা বলতে গেলেন মন্ত্রী? প্রশ্নটি উঠেছে বহু মহলেই৷
বস্তুত, জোট নিয়ে যখন জলঘোলা হচ্ছিল, তখনই বহু বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, নতুন সরকার তৈরি হলেও তারা অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে৷ গত কয়েক বছরে সরকারের অভিবাসন সংক্রান্ত ভাবনা এবং শরণার্থীসংক্রান্ত নীতির ফলে দেশে প্রচুর শরণার্থীর প্রবেশ ঘটেছে এবং সেই সূত্রেই জার্মান জনমনে শরণার্থীদের নিয়ে একরকম দূরত্ব তৈরি হয়েছে৷ ইসলামোফোবিয়াও বেড়েছে কয়েক গুণ৷ যার পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ বা এএফডির মতো উগ্র দক্ষিণপন্থি দল৷
কয়েক বছর আগেও যাদের কার্যত কোনো অস্তিত্ব ছিল না, গত নির্বাচনে তারা বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়েছে এবং সংসদে বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করেছে৷ এ অবস্থায় জোট সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপই সাবধানে ফেলতে হবে৷ খেয়াল রাখতে হবে জনমত যাতে তাদের দিক থেকে একেবারে সরে না যায়৷ দক্ষিণপন্থি মনোভাব তাদের দেখাতেই হবে৷
ঠিক সে ঘটনাই ঘটছে বাস্তবে৷ বস্তুত, সেহোফার বরাবরই দক্ষিণপন্থী বলে পরিচিত৷ এর আগে জার্মানির চ্যান্সেলর মের্কেলের শরণার্থী সংক্রান্ত নীতির বিরোধিতাও করেছেন তিনি৷ মের্কেল বরাবরই বলে এসেছেন, জার্মানিতে সব ধর্মের মানুষের ঐতিহ্যই রক্ষিত হয়৷ কার্যত তার উল্টো সুরই শোনা গেল এবার এ মন্ত্রীর গলায়৷
সরকারের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত তার বক্তব্যের কোনো সমালোচনা করে কোনো বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি৷ মনে করা হচ্ছে, কার্যক্ষেত্রেও সাবধানী পদক্ষেপ করবে নতুন সরকার৷ শরণার্থী প্রসঙ্গে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে যথেষ্টই কঠিন পদক্ষেপ করা হবে৷
এদিকে এর মধ্যেই একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে ব্রস্ট ফাউন্ডেশন৷ তাদের রিপোর্টেও স্পষ্ট, জার্মানিতে গত দুই বছরে ইসলামোফোবিয়া চোখে পড়ার মতো বেড়েছে৷ উদাহরণ দিতে গিয়ে সেখানে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক তুর্কি এসে বসবাস শুরু করেন৷ মূলত কারখানায় কাজের জন্যই তারা আসতে শুরু করেছিলেন৷ এ ছাড়া আশপাশের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো থেকেও বহু মানুষ সে সময় জার্মানিতে এসেছেন৷ কখনোই তাদের নিয়ে জার্মান নাগরিকের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি৷ কিন্তু গত দুই বছরে বিশ্বাসহীনতা অনেক গুণ বেড়ে গেছে৷ অধিকাংশ জার্মান ইদানীং বলতে শুরু করেছেন মুসলিমদের সঙ্গে একত্রে থাকা সম্ভব নয়৷ যদিও উল্টো মতও আছে, কিন্তু সে সংখ্যাটা ক্রমশ কমছে৷ পাশাপাশি এএফডির মতো দলগুলোর সমর্থক বাড়ছে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে
(ঢাকাটাইমস



