প্রবাস

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও স্টেট এ্যাসেম্বলীতে বাংলাদেশীরা

রূপসী বাংলা ডেস্ক:নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সকল পাবলিক স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে হালাল খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি দুই ঈদের দিন ছুটি ঘোষণা, শিশুকালে মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর এখন পর্যন্ত যারা ইমিগ্রেশনের বৈধ স্ট্যাটাস পাননি, সে সব তরুণ-তরুণীকে নিরাপদে বসবাস ও কাজের সুযোগদানের লক্ষ্যে ড্রিম এ্যাক্ট তৈরী, ড্রিমারদের উচ্চ শিক্ষার্থে স্কলারশিপ প্রবর্তণ, পরিবেশন সুরক্ষায় যথাযথ আইন, ধর্মীয় পোষাকের সুরক্ষা, ট্যাক্সি ড্রাইভারদের নিরাপত্তায় আইন তৈরীর দাবিতে বাংলাদেশীরা লাগাতার দেন-দরবার করলেন অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের সাথে। গত ১৩ মার্চ মঙ্গলবার এ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি থেকে শতাধিক প্রবাসীর একটি টিম যায় রাজধানী আলবেনীতে। এসব দাবি আদায়ের জন্যে গত ৭ বছর ধরেই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ‘বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপ’ তথা বিএএজির ব্যানারে অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নীতি-নির্দ্ধারকসহ রাজ্য গভর্ণরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে দেন-দরবার করছেন। বিএএজির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এ প্রসঙ্গে এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে বলেন, সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠির পক্ষের এ দাবি আদায়ের চেষ্টা আছি। একেবারেই ভিন্ন একটি পরিবেশের জনপ্রতিনিধিগণের সমর্থন আদায় করা যতটা জটিল মনে হয়েছিল, ৭ বছরের ব্যবধানে তা আর মনে হচ্ছে না। অনেকেই আমাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। জয়নাল আবেদীন বলেন, ইতিমধ্যে স্টেট সিনেটর ডেমক্র্যাট এন্থনী আভেলা জুনিয়র এবং স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন ঈদের দুদিন ছুটি, ধর্মীয় পোশাকের বৈষম্য বিরোধী বিধি এবং ড্রিম এ্যাক্ট বিল উত্থাপন করেছেন অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টে। এছাড়া, ড্রিমারদের উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ প্রদানের বিধি তৈরীর জন্যে দুটি বিল উঠিয়েছেন সিনেটর হোযে প্যারাল্টা এবং স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ফ্রান্সিসকো ময়া। অর্থাৎ আমাদের দেন-দরবারের প্রভাব ধীরে ধীরে কাজ করছে।নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হচ্ছে স্টেট সিনেট। এর সদস্য সংখ্যা ৬৩। এরমধ্যে ডেমক্র্যাট-২১ এবং রিপাবলিকান ৩১। অপরদিকে স্টেট এ্যাসেম্বলীতে ১০৪ আসন নিয়ে ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। রিপাবলিকানদের আসন-৩৭। এভাবেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট স্টেট পার্লামেন্টের। রিপাবলিকানদের সমর্থন ব্যতিত কোন আইনই করা সম্ভব হয় না নিউইয়র্কে। জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা হতাশ হইনি। রীতি অনুযায়ী দেন-দরবার চালাচ্ছি। এবার ২৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আমরা বৈঠক করেছি ৬৬ জন সিনেটর এবং এ্যাসেম্বলীমেনের সাথে। প্রতিটি গ্রুপের নতুন প্রজন্মের দু’জন করে ছিলো। তারা বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছে এসব দাবি কেন জরুরীভাবে পূরণ করা প্রয়োজন। অভিভাবকদের মধ্যে যারা শুধু বাংলায় কথা বলতে পারেন, তারাও ছিলেন। তাদের বক্তব্য সাথে সাথে অনুবাদকের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। জয়নাল আবেদীন উল্লেখ করেন, বলা বাহুল্য যে, এই ৬৬ জনের অধিকাংশই আমাদের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সহকর্মীদের সাথে তারা এ নিয়ে কথা বলবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন। এটিই আমাদের সাফল্য।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, দু’বছর আগে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী এই সিটির সকল পাবলিক স্কুল-কলেজে দুই ঈদের দিন ছুটি ঘোষিত হচ্ছে। সেই বিধি পুরো অঙ্গরাজ্যে পাবলিক স্কুল-কলেজে প্রসারিত করতে চাচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়। যদিও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত অন্য কোন দেশের মুসলিম-আমেরিকানরা সোচ্চার হয়েছে বলে জানা যায়নি।
বিএএজির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কামাল ভ’ইয়া এবং ট্রেজারার মোহাম্মদ রহমানও ছিলেন গ্রুপভিত্তিক এসব বৈঠকের সমন্বয়কারি। কম্যুনিটির অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে লাগাতার তদ্বিরের প্রশংসা বাক্য উচ্চারণ করে অঙ্গরাজ্য গভর্নরের পক্ষ থেকে বিএএজিকে স্বাধীনতা দিবসের প্রক্লেমেশন প্রদান করেন ডেপুটি গভর্ণর ক্যাথি হকুল। উল্লেখ্য, ডেপুটি গভর্ণর ছাড়াও গভর্ণরের শিক্ষা সচিব এন্থনী লফরোমেন্টোর সাথেও বৈঠক করেছেন কর্মকর্তারা। স্টেট এ্যাসেম্বলীর স্পীকার কাল ই হিস্টিও সাথেও আলাদাভাবে দীর্ঘ বেঠকে মিলিত হন বাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।ইউএসএনিউজঅনলাইন

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension