প্রবাস

‘জ্যাকসনহাইটস এলাকাবাসী’র অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সবার প্রিয় জ্যাকসন হাইটস। জ্যাকসন হাইটসকে ঘিরেই যেন গড়ে উঠেছে ছোট্ট একখণ্ড বাংলাদেশ। কি নেই জ্যাকসন হাইটসে- কেউ যদি এই প্রশ্ন করেন তাহলে চোখ বন্ধ করেও বলে দেয়া যায়- সবই আছে এখানে। জ্যাকসন হাইটসে কেউ যদি আসেন তাহলে বলতে পারবেন না যে বাংলাদেশের বাইরে আছেন। জ্যাকসন হাইটস এখন আমেরিকার প্রবাস বাঙালির রাজধানী বলা যায়। জ্যাকসন হাইটসে এলেই অনুভব করা যায় বাংলাদেশকে। সেই জ্যাকসনহাইটসের কিছু ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ এবং আশেপাশের লোকজনের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী নামে একটি সংগঠন।

এই সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রমাণ করেছে তারা দেশে এবং প্রবাসে অনুকরীয় এবং অনুসরণীয়। বাংলাদেশে যেখানে রাজনীতি নিয়ে প্রতিহিংসা, সেখানে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠা তা করেছে সৌহার্র্দ্য – সম্প্রীতি। তাদের স্লোগান- ‘হিংসা নয়, সম্প্রীতি, বিদ্বেষ নয়, সৌহার্দ্য। বিভক্তি নয়, ঐক্য। ধ্বংস নয়, উন্নয়ন’। এই রাজনীতি যদি বাংলাদেশে হতো তাহলে বাংলাদেশের চিত্রই পাল্টে যেত।

সংগঠনটির অনুষ্ঠানের আয়োজনে সকল দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা থাকেন এবং স্পন্সরও করে থাকেন। যে কারণে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর অনুষ্ঠান মানেই অন্যন্য- অসাধারণ। জয়তু ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’।

জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠার পর প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী অর্থাৎ দলমত নির্বিশেষে ১৫ আগস্ট পালন করে। কয়েক বছর পরেই শুরু করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালন। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন করা হয় না, শুধু আহবায়ক কমিটিতে দলীয় সমর্থকদেরও নিয়ে করা হয়। প্রতিবছরই দুই নেতার মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিলের আয়োজনকরা হয়। কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

তারই ধারাবাহিতায় গেল ৩০ মে পালন করা হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী। জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃষ্টি এবং প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেই বাইরে প্যান্ডেল টাঙানো হয়। বাদ জোহর এই অনুষ্ঠানের শুরু করা হয় দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে। দোয়া পরিচালনা করেন সানিসাইড আহলে বায়ত মসজিদেও ঈমাম মাওলানা আনসারুল করিম।

তবারক বিতরণ উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস আশিক ইসলাম। আহবায়ক কমিটির আহবায়ক দেওয়ান মনির, সদস্য সচিব আলতাব জনি এবং প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কাশেমের নেতেৃত্বে এই সময় অন্যান্যেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সুবর্ণ জয়ন্তী কমিটির আহবায়ক জিল্লুর রহমান জিল্লু, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক জসীম ভুইয়া, আব্দুস সবুর, হাবিবুর রহমান সেলিম, গোলাম ফারুক শাহীন, ভিপি জসীম, আমানত হোসেন আমান, যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ, যুব দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ বাতিন, মাইনুল হাসান মুহিদ, ইসলাম মুহিত, মজিফুর রহমান, আশরাফুজ্জামান, মনির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিলেন জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি শাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জেড আলম নমি, যুগ্ম আহবায়ক শামস জনি, শাহাদাত হোসেন রাজু, কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, সমন্বয়কারী মোতাহার হোসেন, এ জেড এম জাহাঙ্গীর, সহ সভাপতি মোহাম্মদ মানিক বাবু, সহ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলমগীর খান আলম, সদস্য নিহার সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টা মীর নিজামুল হক, উপদেষ্টা এম আজিজ, মার্শাল মুরাদ, কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, রাফেল তালুকদার, আবু সাঈদ আহমেদ, মাজহারুল রবিন, প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, নামিস আহমেদ, মাকসুদুল হক চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম জনি, মাহবুবুর রহমান মুকুল, সাঈদুর খান ডিউক, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, শাহাদাত হোসেন রাজু, নূও ইসলাম বর্ষণ, প্রমুখ।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension