
টাটা মোটরসের জমি থেকে শিল্পায়নের দাবিতে লাল মিছিল
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: হুগলির যে জমিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেখানেই বাম সরকারের পতন সূচিত হয়৷ প্রস্তাবিত কারখানা তৈরির জন্য জমি নেওয়ার বিতর্কিত কারণে শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ৷ সেই থেকেই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান শুরু নতুন করে৷ কিন্তু শিল্প হয়নি সিঙ্গুরে৷ বাম জমানার পতনের পর আবারও সেখান থেকেই শুরু হল কর্মসংস্থান সহ একাধিক ইস্যুতে বিশাল মিছিল৷
সারা ভারত কিষান সভার নেতৃত্বে মিছিল শুরু হয়েছে৷ আর শুরু থেকেই দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে দেখা গিয়েছে মানুষের ঢল৷ তা দেখে উজ্জীবিত বাম নেতারা৷ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে মিছিল বৃহস্পতিবার কলকাতায় রাজভবনের কাছে গিয়ে সমাপ্ত হবে৷ রানি রাশমণি রোডে হবে জনসভা৷ সিপিএম সহ বাম নেতাদের দাবি, অন্তত পঞ্চাশ হাজার মানুষ আসবেন সেই সভায়৷
টাটা গোষ্ঠীকে দিয়ে ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে। কারখানা জন্য জমি নিতে গেলে অনিচ্ছুক কৃষকরা বাধা দেয়৷ সেই সময় বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অনিচ্ছুক কৃষকদের সমর্থনে আন্দোলনের নেমে পড়েন৷ যার জেরে সিঙ্গুর থেকে গুজরাতের সানন্দে গাড়ি প্রকল্প সরিয়ে নেন তৎকালীন টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রতন টাটা৷
২০১১ সালে রাজনৈতিক পালা বদলের ফলে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মমতা পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হন৷ কিন্তু তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় টাটা গোষ্ঠী৷ শেষমেশ আদালত মমতার পক্ষে রায় দেয়৷ শুরু হয় জমি ফিরিয়ে দিয়ে ফের চাষবাসের প্রক্রিয়া৷ কিন্তু বাস্তবে তা কি আদৌ চালু করা গিয়েছে – এটাই এখন প্রশ্ন তুলেছেন বামেরা৷
রাজনৈতিক দিক থেকে মমতার জয় হলেও সিঙ্গুরের মানুষের জীবনে সুদিন ফেরেনি বলেই অভিমত বামদের৷ বরং অনেকেই মনে হচ্ছে কারখানা হলে চাকরি হত অনেকের৷ আর এবার একদল মানুষের সেই ক্ষোভকেই কাজে লাগিয়ে লঙ মার্চে যেতে চেয়েছে বাম কর্মী,সমর্থকেরা৷
ফলে সেই সব মানুষদের অধিকার বুঝে নিতে সিঙ্গুর থেকে রাজভবন অভিযান করবে কৃষকরা। ২৮ নভেম্বর সিঙ্গুর থেকে যাত্রা শুরু করবে পদ যাত্রীরা, ডানকুনি হয়ে বালি বেলুড় সহ বিভিন্ন জায়গায় থাকবেন তাঁরা, সেখান থেকে ২৯ নভেম্বর পদযাত্রা করে আসবেন রাজভবন। এই ৫২ কিলোমিটারের এই লঙ মার্চে শুধু সিঙ্গুর থেকে নয় কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাম সমর্থকরা পায়ে হেটে আসবেন।



