
টানা পঞ্চম মাসে প্রবৃদ্ধিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি
চলতি বছরের প্রথম থেকে কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল শুরু করে যুক্তরাজ্য সরকার। দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতে প্রায় পুরোপুরি খুলে দেয়া হয় দেশটির অর্থনীতি। এর পরই কভিডের বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বিভিন্ন খাত। এপ্রিল-জুন সময়কালে ব্রিটিশ অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যদিও দেশটির অর্থনীতি মহামারী শুরুর ঠিক আগের স্তর থেকে এখনো ৪ দশমিক ৪ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা পঞ্চম মাসের মতো জুনে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে। শুধু জুনে দেশটির অর্থনীতি ১ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া জুন ছিল প্রথম পূর্ণ মাস, যে সময় অর্থনীতির অনেক খাত যেমন পাব ও রেস্তোরাঁগুলো সম্পূর্ণরূপে খোলা ছিল।
ইকোনমিক স্ট্যাটিস্টিকসের ডেপুটি ন্যাশনাল পরিসংখ্যানবিদ জোনাথন অ্যাথো বলেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি জোরালোভাবে পুনরুদ্ধার অব্যাহত রেখেছে। প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ ডাইনিং খোলার অনুমতির বিষয়টি আতিথেয়তা খাতের পুনরুদ্ধারে অবদান রেখেছে। পাশাপাশি এ সময়ে অনেক পরিষেবা পুনরায় চালু করার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাজ্যে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রমের পর ২০২১ সালের শুরুর দিক থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। এরপর কয়েক মাস ধরেই দেশটির সব খাতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত মাসে দেশটিতে বিধিনিষেধের সব আইন যেমন সামাজিক দূরত্বের নিয়ম এবং একসঙ্গে জড়ো হওয়া মানুষের সীমাও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
অর্থনীতিবিদরা আগামী মাসগুলোতে আরো জোরালো প্রবৃদ্ধির আশা করছেন। যদিও বর্তমানে আবারো দেশটিতে কভিড সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। গত সপ্তাহে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বলেছিল, কভিড মহামারী থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি ভোক্তা চাহিদা বাড়িয়ে তুলবে এবং বছরের শেষ নাগাদ ব্রিটিশ অর্থনীতিকে প্রাক-মহামারীর স্তরে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়ান স্টুয়ার্ট বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি অসাধারণ দ্রুত হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে ২০০৮-০৯ সালের আর্থিক সংকটে বিধ্বস্ত উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল।
তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা আরো মারাত্মক। তবে পুনরুদ্ধার অনেক দ্রুত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ সরকারি সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং প্রত্যাবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছে। এ অভিজ্ঞতা তাদের বিশ্বাসকে আরো শক্তিশালী করবে, যারা বিশ্বাস করেন, সরকার ও ভোক্তা ব্যয় প্রচলিত মন্দা মোকাবেলায় অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে সমাগ্রিকভাবে আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা ধীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে বেতন সহায়তা স্কিমসহ সরকারি সহায়তার পরিমাণ কমে গেছে।
এক্ষেত্রে একটি অনিশ্চয়তা হলো, অর্থনীতি সহায়তা স্কিমের শেষ দিকে সামঞ্জস্য করবে। মহামারী শুরুর পর গত বছরের মার্চে বেকারত্বের হ্রাস ঠেকাতে এসব সহায়তা প্রোগ্রামগুলো চালু হয়েছিল। বেতন সহায়তা স্কিমের মাধ্যমে সরকার বিধিনিষেধ ব্যবস্থাগুলোর কারণে কাজ হারানো কর্মীদের বেতনের ৮০ শতাংশ প্রদান করেছে।
পর্যায়ক্রমে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বন্ধ হওয়া এ স্কিম ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে সহায়তা করেছিল। যদিও এ সহায়তার সংখ্যা এখন ২০ লাখের নিচে নেমে এসেছে। আতিথেয়তার মতো বিভিন্ন খাত চালু হওয়ায় এ সহায়তা নেয়া মানুষের সংখ্যা কমছে। ব্রিটিশ সরকারের এ সহায়তা বেকারত্ব হারেও অবদান রেখেছিল। এটি দেশটির বেকারত্ব হার ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেছিল।



