
নিউইয়র্কে চ্যানেল আই’র বর্ণাঢ্য বর্ষপূর্তি
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: চ্যানেল আই টিভির ২০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে নিউইয়র্কে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসী এবং ক’টনীতিকদের মেলা বসেছিল নিউইয়র্কে চ্যানেল আই অফিস প্রাঙ্গনে। ‘কোটি প্রাণে মিশে আমরা এখন ২০-এ’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানটি প্রাণে প্রাণে মিশে গিয়েছিল শুভেচ্ছা আর ধন্যবাদের পালায়। কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলেননি আয়োজকরা। বিনিময়ে দৃশ্যমান ফুলেল শুভেচ্ছাও মিলেছে চ্যানেল আই-এর।

৩০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান শুরু হয় সবিতা দাসের নেতৃত্বে বহ্নিশিখার শিল্পীদের দেশের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীর মধ্যে ছিল প্রিনা নন্দী, প্রান্তি ভদ্র, দুর্জয় ভদ্র, ফাতেমা তাবাসসুম, লিরা, সামিদা, রাজু বিশ্বাস। সমবেত সঙ্গীতে আরো ছিলেন উইলি নন্দী এবং সামস কে ভদ্র। মূল অনুষ্ঠানের আগে সবিতা দাস এবং হারুন জনপ্রিয় বেশকটি গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন। এরপরই চ্যানেল আই-এর সিনিয়র রিপোর্টার পান্থ রহমান অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে কীভাবে চ্যানেলটি বিশ্বব্যাপী বাঙালির প্রিয় চ্যানেলে পরিণত হয়েছে তা বিবৃত করেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনাও পান্থকেই করতে হয়।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা চ্যানেল আই-এর প্রশংসা করে বলেন যে, বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য লালন ও বিকাশে সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট থাকায় দিনদিনই তা সকলের প্রিয় চ্যানেলে পরিণত হচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির যুগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে সর্বত্র উদ্বেগ বিরাজ করলেও এই চ্যানেলটি নিজস্ব সত্তা জিইয়ে রেখেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি টিকে থাকুক অনন্তকাল-এ কামনা ১৯ বছর পূর্তি উৎসবে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এই চ্যানেলের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। সেই গতি ত্বরান্বিত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রবাসীদের সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশকে থমকে দাঁড়িয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে এবং তাতে মিডিয়ার লোকজনের সম্পৃক্ততাও পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সচেতন বাঙালিরা সোচ্চার থাকবেন বলে আশা করছি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহি মিনা। তিনি বলেন, চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপি। লাল-সবুজের পতাকা বহন করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছে।

কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই চ্যানেলের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত থাকার স্মৃতিচারণের সময় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালিন কলকাতায় ফরিদুর রেজা সাগরের বাবার কথোপকথন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, একেবারেই সাদামনের মানুষ ছিলেন এবং তার সুযোগ্য পুত্র ফরিদুর রেজা সাগরকেও বাংলার মানুষ সেভাবেই দেখছে। এটি হচ্ছে জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি।
এই চ্যানেলের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে আরো শুভেচ্ছা-বক্তব্য দেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, কন্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, খান’স টিউটোরিয়ালের প্রেসিডেন্ট নাঈমা খান, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা, জেবিবিএর নেতা আবুল ফজল দিদার, খাবার বাড়ির অন্যতম কর্ণধার হারুন ভ’ইয়া, বিজনেস এলায়েন্সের নেতা ফাহাদ সোলায়মান, সঙ্গীত শিক্ষক তপন বৈদ্য প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে সর্বস্তরের প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান উত্তর আমেরিকা অফিসের কর্ণধার মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সকলের আন্তরিক সহায়তায় চ্যানেল আই বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে।’ অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন চ্যানেল আই’র জনপ্রিয় সাংবাদিক মোস্তফা মল্লিক এবং আলী ইউসুফ।
লাল-সবুজের আবহে পুরো প্রাঙ্গন ছিল বাংলা আর বাঙালির জয়গানে পূর্ণ। গভীর রাতে তিতাস রেস্টুরেন্টের সুস্বাদু ডিনারের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উৎসবের সমাপ্তির প্রাক্কালে ২০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ২০ পাউন্ডের কেক কাটা হয় গান আর করতালিতে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, নূরল ইসলাম, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য কানু দত্ত, সিনিয়র সদস্য মিজানুর রহমান, কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট হাজী এনাম, ড. রফিক আহমেদ, কামরুজ্জামান কামরুল, শাহ জে চৌধুরী, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের বিশেষ সংবাদদাতা রফিউল ইসলাম টুটুল, তারেকুল হায়দার চৌধুরী, শামসাদ হুসাম, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, নূরল ইসলাম, যুবলীগের নান্টু মিয়া প্রমুখ।
এনআরবি নিউজ



