সম্পাদকীয়

প্রায় পুরো দায়িত্ব সরকারি দলকেই নিতে হবে

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের সংশ্লিষ্ট কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ পড়িয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার নিজেই নিজের শপথ পড়েছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, মহাজোটের মোট ২৮৮ ও স্বতন্ত্র ৩ সংসদ সদস্য শপথবাক্য পাঠ করেছেন, অর্থাৎ বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ৭ সংসদ সদস্য শপথ নেন নি।
 
তারা অবশ্য ইতোমধ্যেই ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তারা শপথ নিতে পারবেন, অন্যথায় তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলা যায়। আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভা গঠন ও মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানের পর সরকারটি তার পূর্ণ রূপ ধারণ করবে।
 
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় নতুন সরকারের ওপর দায়িত্ব বেড়ে গেছে অনেক। বলাবাহুল্য, দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। সেদিক থেকে এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হয়েছে এবং বলতেই হবে ভোট গ্রহণের ব্যাপারে নানা অভিযোগ সত্ত্বেও এ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এখন নতুন সরকারের দায়িত্ব হবে তাদের প্রতি গণরায়ের যথাযথ মূল্য দেয়া।
 
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, গত পাঁচ বছরের শাসনামলটি নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতি ছিল বহুল আলোচিত বিষয়। নবনির্বাচিত সদস্যদের দায়িত্ব হবে এ দুই ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা নেয়া। সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব সংসদে আইন প্রণয়ন করা হলেও তারা আরও নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। স্ব স্ব এলাকার উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সেগুলোর একটি। তাছাড়া এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। গত পাঁচ বছরে লক্ষ্য করা গেছে, প্রায় প্রতিটি এলাকায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির অভিযোগও ছিল এন্তার। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এসব বিষয়েও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
 
মহাজোট সরকার গত দশ বছরে দেশের প্রভূত উন্নয়ন করেছে। বস্তুত এবারের নির্বাচনে তাদের বিজয়ের পেছনে এই উন্নয়নও বড় ভূমিকা রেখেছে। সরকারের এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন প্রক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংসদে বসে তারা যদি দেশের বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষণ করে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে এবং সে অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করতে পারেন, তাহলে দেশ যে আরও এগিয়ে যাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। স্মরণ রাখতে হবে, সংসদে গৃহীত প্রতিটি আইনই যেন হয় গণমুখী, গণবিরোধী নয়।
 
এবারের সংসদে বিরোধী দলের অবস্থা খুবই দুর্বল। অন্যতম বড় দল বিএনপির আসন সংখ্যা মাত্র ৫, তা-ও তারা শেষ পর্যন্ত শপথ নেবেন কিনা, নিশ্চিত নয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন। আর বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্বে থাকবেন জিএম কাদের। সবটা মিলিয়ে নতুন সংসদকে কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হলে সরকারি দলকেই প্রায় পুরো দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন সংসদ সদস্যদের প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension