
কোমল দাস
ঘরবাড়ি সব জলের নিচেই চতুর্দিকেই জল,
কোন আশাতে বাঁচবো আমি বল না বন্ধু বল?
এই বন্যায় হয়েছি যে পিতামাতা হারা
বানের জলেই পোয়াতি বউ ডুবে গেছে মারা।
গরু ছাগল ডুবে গেছে ডুবে গেছে আশা
ডুবে গেছে আমার মুখের দুঃখ বলার ভাষা,
বুকের ভেতর ভর করেছে চিতার নীরবতা
তাই তো গলা আটকে যাচ্ছে বেরোচ্ছে না কথা।
দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর যে মাটিতে দিতাম
যার থেকে এই বুকের মাঝে স্বর্গ সুখ নিতাম,
সেই মাটি আজ পর করেছে বল কে নেবে কোলে?
উদ্ধার আমায় করিস নে ভাই যা তোরা যা চলে।
বলছিস কী! সব স্বাভাবিক হবে ধীরে ধীরে
পিতামাতা পোয়াতি বউ আসবে কি আর ফিরে?
আর আশা নেই আমার সূর্য উঠবে আবার পূবে
সবাই যখন ডুবে গেছে আমিও যাব ডুবে।
কাঁদব না আর লাভ কী কেঁদে ঘাতক বানের ভাঁজে
চোখের অশ্রু যায় কি দেখা এত জলের মাঝে?



